ED: মিউনিসিপ্যালিটি নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে ফের তোলপাড়, কলকাতায় ইডির তল্লাশি, উদ্ধার ৩ কোটি টাকা নগদ

কলকাতা রাজনীতি রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: মিউনিসিপ্যালিটি নিয়োগ কেলেঙ্কারিকে (Municipal Recruitment Scam) ঘিরে ফের তীব্র আলোড়ন। কলকাতার ইডি (ED) জোনাল অফিস টানা দুই দিন ২৮ ও ২৯ অক্টোবর, ২০২৫ রাজধানী ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় সাতটি স্থানে জোরদার তল্লাশি চালিয়েছে। এই অভিযান মূল অভিযুক্ত ও তাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের অফিস ও বাড়িতে একযোগে পরিচালিত হয়। তদন্তকারীরা Radiant Enterprise Pvt. Ltd., Garodia Securities Ltd., Jeet Construction and Consultants সহ একাধিক সংস্থার দফতর ও তাদের প্রমোটর-পরিচালকদের বাড়ি ঘিরে তল্লাশি চালান। তল্লাশিতে বিপুল সংখ্যক নথিপত্র, ডিজিটাল ডিভাইস এবং প্রায় ৩ কোটি টাকার নগদ অর্থ উদ্ধার হয়েছে বলে ইডি সূত্রে খবর।

আরও পড়ুন: Kunal Ghosh: ভোটার তালিকায় ‘চুপি-চুপি কারচুপি’র অভিযোগ, সরাসরি কমিশনের দিকে আঙুল তৃণমূলের

তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযুক্তদের কালো টাকা ‘বোগাস সার্ভিস’-এর আড়ালে একাধিক সংস্থার মাধ্যমে পাচার করা হচ্ছিল। অর্থাৎ, ভুয়ো পরিষেবা দেখিয়ে ঘুষের টাকা বৈধ লেনদেন হিসেবে দেখানো হচ্ছিল। উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগে ১০ অক্টোবর, ২০২৫-এ ইডি (ED) রাজ্যের দমকল মন্ত্রী তথা বিধায়ক সুজিত বসু-র (Sujit Bose) দফতরসহ মোট ১৩টি জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছিল, যেখানে প্রায় ৪৫ লক্ষ টাকা নগদ ও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার হয়। কলকাতা হাই কোর্টের (Kolkata High Court) নির্দেশে সিবিআই-এর (CBI) দায়ের করা এফআইআর-এর ভিত্তিতেই এই মামলায় ইডি তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীকালে ‘Soumen Nandy vs The State of West Bengal & Ors’ মামলায় ইডি (ED)একটি স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দিয়ে জানায়, রাজ্যের বিভিন্ন মিউনিসিপ্যালিটিতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে।

এর আগেই প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারির তদন্তে আয়ন সিল-এর নাম উঠে আসে। ইডি ২০২৩ সালে তার একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালিয়ে প্রচুর গোপন নথি ও ডিজিটাল প্রমাণ উদ্ধার করে। সেসব তথ্য ঘেঁটে জানা যায়, শিক্ষক নিয়োগই নয়, কাঁচড়াপাড়া, কামারহাটি, টিটাগড়, দক্ষিণ দমদম, বরানগর, হালিশহর, নিউ ব্যারাকপুর প্রভৃতি মিউনিসিপ্যালিটিতেও শ্রমিক, ঝাড়ুদার, পিয়ন, ক্লার্ক, অ্যাম্বুল্যান্স অ্যাটেন্ডেন্ট, ড্রাইভার, পাম্প অপারেটর সহ নানা পদে বেআইনি নিয়োগ হয়েছে। ইডির দাবি, এই নিয়োগের মূল চাবিকাঠি ছিল ABS Infozon Pvt. Ltd., যার ডিরেক্টর আয়ন সিল। এই সংস্থা প্রশ্নপত্র মুদ্রণ, OMR শিট মূল্যায়ন ও মেধাতালিকা প্রস্তুতির দায়িত্বে ছিল। সেই সুযোগে আয়ন সিল ঘুষের বিনিময়ে একাধিক অযোগ্য প্রার্থীকে চাকরি পাইয়ে দেন বলে অভিযোগ। ইতিমধ্যে ইডি এই মামলায় আয়ন সিলের বিরুদ্ধে পিএমএলএ আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে। পাশাপাশি, দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু ও খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষের বাসভবনেও আগেই তল্লাশি চালানো হয়েছিল। তদন্তকারীদের মতে, রাজ্যের মিউনিসিপ্যাল নিয়োগ দুর্নীতি এখন একটি বিশাল অর্থপাচার চক্রের রূপ নিয়েছে।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole