Foreign Body Removal : বাংলায় প্রথম! কুকুরের পেট থেকে ধাতব বস্তু বের হল এন্ডোস্কোপিক পদ্ধতিতে

কলকাতা প্রযুক্তি স্বাস্থ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: পোষ্য কুকুরের জন্য সাধারণ অস্ত্রোপচার সবসময়ই ঝুঁকিপূর্ণ। তাই এবার বাংলায় প্রথমবার একটি অত্যাধুনিক পদ্ধতি প্রয়োগ করা হল এন্ডোস্কপিক ফরেন বডি রিমুভাল (Endoscopic Foreign Body Removal)। এতে কোনো বড়ো কেটে ছেঁড়া দরকার হয় না। অ্যানাস্থেসিয়া গ্যাস দিয়ে কুকুরকে অজ্ঞান করা হয়, তারপর মুখ দিয়ে একটি ফ্লেক্সিবল এন্ডোস্কোপ(Endoscopic) প্রবেশ করানো হয়। এন্ডোস্কোপের(Endoscopic) সামনে থাকা ক্যামেরা সাহায্যে স্ক্রিনে দেখা যায় পেটের ভেতরের সম্পূর্ণ ছবি, এবং সেই অনুযায়ী ধাতব বা অন্য কোনো ফরেন বডি সরানো হয়। এই অনন্য চিকিৎসার নায়ক হলো লেকটাউনের বাসিন্দা শক্তিনাথ দে-এর চার মাস বয়সী বিগল কুকুর। সম্প্রতি সে গিলে ফেলেছিল সেতার বাজানোর সময় ব্যবহৃত একটি ধাতব অংশ, মিজরাব (Mizrab)। প্রথমে পরিবারের লোকেরা ভেবেছিলেন, কুকুর মলের সঙ্গে ধাতব অংশ বের করবে। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। ধাতব মিজরাব পেটে আটকে গিয়ে কুকুরে শারীরিক সমস্যা সৃষ্টি করেছিল।

আরও পড়ুন : Millet Momo : নতুন স্বাদের মিলেট মোমো,বক্সা পাহাড়ে স্বনির্ভর মহিলাদের স্টলে স্বাস্থ্যকর ও সুস্বাদু মোমোর আনন্দ!

সাধারণ অস্ত্রোপচার কুকুরের ক্ষেত্রে প্রায়ই জটিল হয়ে ওঠে। ডাক্তাররা বলেন, ‘‘মানুষের মতো সহজে কুকুরের পেটে স্টিচ করা যায় না। তারা চলাফেরা করতে গিয়ে স্টিচ ছিঁড়ে দিতে পারে, যা বিপদজনক হয়।’’ তাই অন্য বিকল্প খুঁজতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত অ্যানিম্যাল হেলথ প্যাথলজি ল্যাবের কাছে আসেন পরিবার। চিকিৎসকরা শিশুদের শ্বাসনালি থেকে সেফটি পিন বা পেনের ঢাকনা বের করার পদ্ধতি ব্যবহার করে এই চারপেয়ের পেট থেকে মিজরাব বের করেন। নন-সার্জিকাল এই পদ্ধতিতে কুকুরের খাদ্যনালী, পাকস্থলী বা অন্ত্রে আটকে থাকা ফরেন বডি নিরাপদে সরানো সম্ভব হয়।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:-https://youtube.com/@thenewspole

চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, পোষ্যদের খাবার বা খেলনা খাওয়ার সময় খেয়াল রাখা অত্যন্ত জরুরি। ছোটো সারমেয়দের জন্য ধাতব বা ছোটো বস্তু গিলে ফেলার ঘটনা জীবন বিপন্ন করতে পারে। এই সফল এন্ডোস্কপিক ফরেন বডি রিমুভাল (Endoscopic Foreign Body Removal) কুকুরের জন্য একটি নতুন দিশা দেখিয়েছে, যেখানে ঝুঁকি কম, পুনরুদ্ধার দ্রুত এবং পোষ্য সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ফিরে আসে। শক্তিনাথ দে-এর পোষ্য এই চিকিৎসার মাধ্যমে প্রাণে বেঁচে যায়, এবং তার পরিবার নিশ্চিত যে ভবিষ্যতে তারা আরও সাবধান থাকবেন। ছোট্ট চারপেয়ের জীবনের এই জয় শুধু প্রযুক্তির বিজয় নয়, বরং মানুষের যত্ন ও ভালোবাসারও প্রমাণ।