Editorial : নতুন কাহিনী লেখার মাল মশলা দিল বিশ্বকাপ

সম্পাদকীয়

নিউজ পোল ব্যুরোঃ এ যেন রূপোলী পর্দা থেকে বাস্তবের চালচিত্র। রূপোলী পর্দা থেকে বাস্তবের জয়(World Cup)। ভারতের সংস্কৃতিতে সিনেমা শুধু বিনোদন নয়, এক গভীর মানসিক অনুপ্রেরণার উৎস। জয় সন্তোষী মা যখন মুক্তি পেয়েছিল, ধর্ম ও ভক্তির জোয়ারে ভেসে গিয়েছিল গোটা দেশ। বাবা তারকনাথ, যাত্রা ও পুজোর মতই, মানুষের বিশ্বাসে ছুঁয়ে দিয়েছিল ঈশ্বরের উপস্থিতি। পরে সময় বদলেছে, প্রেক্ষাপট পাল্টেছে, কিন্তু সিনেমার সেই অনুপ্রেরণা যেন আরও বাস্তব হয়েছে। চাক দে ইন্ডিয়া, কোনি, কিংবা ভাগ মিলখা ভাগ – এই ছবিগুলো শুধু ক্রীড়ার গল্প নয়, এগুলো দৃঢ়তা, সংগ্রাম আর আত্মবিশ্বাসের পাঠশালা(World Cup)। একসময় পর্দায় দেখা যে দৃশ্য—মেয়েরা কোচের নেতৃত্বে খেলছে, জিতছে, হারছে, আবার উঠে দাঁড়াচ্ছে—আজ তা বাস্তবে চোখে পড়ছে। এবার যেন সেই রুপোলি পর্দার স্বপ্ন বাস্তবের আলোয় ঝলমল করছে। অমল মজুমদার এক কখনও ভারতীয় দলে জায়গা না পাওয়া এক অখ্যাত ক্রিকেটার। যার নীতি-আদর্শ অনেক খেলার কোচের জীবনদর্শনের থেকে আলাদা। যার কাছে খেলোয়াড় মেয়েরা যেন এক ছোট পরিবারের সদস্য। কোন ইগো নেই, কোন বাড়তি চাপ নেই। কোন মন্ত্রবলে পরপর হেরে গিয়েও যে দল ঘুরে দাঁড়ায় যেন স্বপ্নের মত। জ্বলে ওঠে দাবানল হয়ে। ব্যক্তি মানুষের থেকে বড় হয়ে যায় দলগত শক্তি। একজনের সাফল্যে যেমন বাকিরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছে। তেমনি জাতীয় পতাকার জন্য জীবন পণ করে লড়াই করছে। এই দৃশ্য যথেষ্ট দুর্লভ। ভারতের মেয়েরা বিশ্বকাপ জিতেছে(World Cup)।
[আরও পড়ুন]  http://D ফর ডর, ডিলিট নাকি ডেমোক্রেসি
ক্রিকেটের এ জয় শুধু একটি ট্রফি জেতার গল্প নয়, এটি সামাজিক মানসিকতার বদলের প্রতীক। সিনেমা যেখানে সাহস শিখিয়েছে, বাস্তব সেখানে সেই সাহসকে রূপ দিয়েছে সাফল্যে। মাঠের প্রতিটি ঘাম আর পরিশ্রম যেন বলছে, ‘চাক দে’ আর ‘ভাগ মিলখা ভাগ’ শুধুই দৃশ্য নয়—এগুলো ছিল ভবিষ্যতের প্রস্তুতি। মেয়েরা এখন আর ছেলেদের সমান নয়, অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে। ‘পাপা কি পরী’ থেকে হয়ে উঠেছে পাপার পরিপূরক শক্তি। সত্যি বলতে কি, আমাদের মেয়েরা যে কেন দশভুজা তার প্রমাণ আরও একবার মাঠের মাঝে সবার সামনে তুলে ধরল। ইন্দিরা গান্ধী থেকে দ্রৌপদী মুর্মূ কিংবা একটু বিস্তৃত করে জয়ললিতা বা মমতার নাম জুড়ে দিলে বোধকরি বাড়াবাড়ি হবেনা- মেয়েদের আলাদা নজরে দেখতে হবে। সেটা যদি পুরুষের থেকে উঁচুতে হয়, আপত্তি কি? ভারতের নারী দলের এই সাফল্য প্রমাণ করে, অনুপ্রেরণা কখন নিরর্থক যায় না। তা সিনেমার হোক বা জীবনের, প্রতিটি গল্প, প্রতিটি লড়াই শেষ পর্যন্ত বাস্তবের জয়ে মিশে যায়। কাহিনী লেখা হোক আরও নতুন নতুন। মেয়েদের নায়িকা প্রধান চরিত্র হিসেবে। মেয়েদের সেই দিন এসে গেছে। অবলা শব্দটা কি এবার অভিধানে ‘ডিলিট’ করা হবে।