নিউজ পোল ব্যুরো: ঝাড়গ্রাম জেলার (Jhargram District) গোপীবল্লভপুর (Gopiballavpur) এলাকার সুবর্ণরেখা নদীর (Subarnarekha River) তীরে এখনো জীবন্ত এক প্রাচীন লোকসংস্কৃতি। প্রতিবছর রাসযাত্রা (Rash Yatra) উপলক্ষ্যে এই অঞ্চলের গ্রামগুলিতে পালিত হয় এক বিশেষ রীতি নদীতে শোলার তৈরি নৌকো (Sholapith Boat) ভাসানো। গোপীবল্লভপুর, শ্যামসুন্দরপুর, ধর্মপুর এবং আশুই গ্রামের বাসিন্দারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই প্রথা পালন করে আসছেন। রাসপুজোর সকালে সূর্যোদয়ের সময় গ্রামবাসীরা প্রথমে রাধাকৃষ্ণের মন্দিরে (Radha-Krishna Temple) যাওয়ার আগে সূর্যদেবকে (Sun God) নিবেদন জানান। সেই নিবেদনের অঙ্গ হিসেবেই তারা সুবর্ণরেখা নদীতে রঙিন পতাকায় সাজানো ছোট ছোট শোলার নৌকো ভাসান। বিশ্বাস করা হয়, এই নৌকা ভাসানো মানেই নদী, প্রকৃতি ও দেবতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ।
আরও পড়ুন : Weather Update : বঙ্গে ফের বৃষ্টির পূর্বাভাস! কবে নামবে জাঁকিয়ে শীত? রইল সম্পূর্ণ আবহাওয়া আপডেট
নৌকা ভাসানোর আগে নদীতীরে এক বিশেষ আচার পালিত হয়। বালির মধ্যে গুঁজে দেওয়া হয় পাঁচ প্রকার গাছ—আঁখ (Sugarcane), হলুদ (Turmeric), তুলসী (Basil), কচু (Taro) ও একটি স্থানীয় পবিত্র উদ্ভিদ। এই পাঁচটি গাছকে প্রতীকী দেবতা হিসেবে পুজো করা হয়। এরপর নদীর জল নিয়ে সেই গাছগুলির উপর ঢালা হয়, যা জীবনের উৎস ও শুদ্ধতার প্রতীক। এই আচার শেষে সূচনা হয় নৌকা ভাসানোর অনুষ্ঠানের। নদীতে ভেসে যাওয়া প্রতিটি শোলার নৌকোকে সূর্যদেবের উদ্দেশে উৎসর্গ করা হয়। এই সময় নদীতীরে উপস্থিত থাকে গ্রামবাসী থেকে শুরু করে দর্শনার্থীরাও। কেউ গাইছেন ভক্তিমূলক গান, কেউ বাজাচ্ছেন ঢাক বা করতাল। এক গভীর ভক্তির আবহে ভরে ওঠে সুবর্ণরেখার তীর।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক: https://youtube.com/@thenewspole
আশুই গ্রামের বাসিন্দা সনাতন দাস জানান, “আমাদের পূর্বপুরুষদের আমল থেকেই এই রীতি চলে আসছে। রাধাকৃষ্ণের মন্দিরে পুজোর আগে সূর্যদেবকে নৌকা নিবেদন করাই আমাদের প্রথা। এটা কেবল ধর্ম নয়, আমাদের সংস্কৃতিরও (Cultural Heritage) অংশ।” তিনি আরও জানান, সুবর্ণরেখা নদীর তীরবর্তী এই অঞ্চল তিন রাজ্যের সংযোগস্থল—বাংলা (West Bengal), ওড়িশা (Odisha) ও ঝাড়খণ্ড (Jharkhand)। তাই এই প্রথা তিন রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকায় সমানভাবে জনপ্রিয়। রাসযাত্রার এই অনন্য নৌকো ভাসানোর অনুষ্ঠান শুধু ধর্মীয় নয়, সামাজিক বন্ধনেরও প্রতীক। এটি প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধা, ঐতিহ্যের সংরক্ষণ এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলা এক অমূল্য সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার (Folk Tradition of Bengal)।
