Eye Retina: চোখ জানাবে আসল বয়স! রেটিনায় মিলল বার্ধক্যের সূত্র

বিজ্ঞান

নিউজ পোল ব্যুরো: আপনার বয়স কত, তা জানিয়ে দেবে আপনার চোখের রক্তজালিকা (Retinal Blood Vessels)। শুধু তাই নয়, চোখই জানিয়ে দিতে পারে আপনার হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাস্থ্য কেমন। সম্প্রতি এমনই এক যুগান্তকারী তথ্য প্রকাশ করেছেন কানাডার ম্যাকমাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের (McMaster University) গবেষকরা। তাদের মতে, চোখের রেটিনায় (Eye Retina) থাকা সূক্ষ্ম শিরা-উপশিরার নকশাই মানুষের বার্ধক্য (Ageing Process) ও হৃদ্‌রোগের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

আরও পড়ুন:SSC Result 2025: শুক্রবার প্রকাশ এসএসসি ফল! আগে একাদশ-দ্বাদশ, পরে নবম-দশমের ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া শুরু

এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, চোখের রক্তনালির পরিবর্তন (Vascular Changes in Eye) অনেক সময়ই শরীরের রক্তনালিতে ঘটতে থাকা পরিবর্তনের পূর্বাভাস দেয়। অর্থাৎ, শরীরে কোনও রোগের লক্ষণ প্রকাশের আগেই চোখ জানিয়ে দিতে পারে সেই বিপদের আভাস। এই গবেষণায় অংশ নিয়েছিলেন ৭৪ হাজারেরও বেশি ব্যক্তি। বিজ্ঞানীরা তাদের প্রত্যেকের রেটিনার ছবি এবং রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করেন।

গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, যাদের রেটিনায় রক্তনালির গঠন তুলনামূলকভাবে সরল (Simplified Retinal Structure), অর্থাৎ শাখা-প্রশাখা কম, তাদের মধ্যে হৃদ্‌রোগ , প্রদাহ ও দ্রুত বার্ধক্যের সম্ভাবনা অনেক বেশি। এমন ব্যক্তিদের আয়ুও তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা। ম্যাকমাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মারি পিজেয়ের (Marie Pigeyre) বলেন, বয়স বাড়লে শরীরের রক্তনালির উপর তার প্রভাব চোখের রেটিনাতেই প্রতিফলিত হয়। এই সম্পর্ক বোঝার মাধ্যমে ভবিষ্যতে হার্ট অ্যাটাক (Heart Attack), স্ট্রোক এবং ডিমেনশিয়া -র মতো জটিল রোগ আগে থেকেই শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে। সহজ রেটিনা স্ক্যান করেই চিকিৎসকেরা ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ঝুঁকি বুঝে চিকিৎসা শুরু করতে পারবেন।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole

তবে বিজ্ঞানীরা আরও জানান, রেটিনার রক্তজালিকার এই পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছে গভীর জৈবিক প্রক্রিয়া । তারা আবিষ্কার করেছেন দুটি বিশেষ প্রোটিন—MMP12 এবং IgG-Fc Receptor IIB—যেগুলি রক্তনালির ক্ষয় (Vascular Damage) ও বার্ধক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। গবেষকদের মতে, ভবিষ্যতে যদি এমন ওষুধ তৈরি করা যায় যা এই প্রোটিনগুলিকে লক্ষ্য করে কাজ করবে, তবে রক্তনালি দীর্ঘদিন সুস্থ থাকবে এবং হার্টের কার্যক্ষমতা (Cardiac Function) অনেকাংশে বজায় রাখা সম্ভব হবে।