SIR Protest : ঠাকুরনগরে এসআইআরের বিরুদ্ধে অনশন চরমে, মঞ্চেই অসুস্থ তিন অনশনকারী

রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: ঠাকুরনগর অনশন ঘিরে (SIR protest) ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে মতুয়া মহল। এসআইআর (SIR) প্রকল্পের বিরুদ্ধে ঠাকুরনগরের মতুয়া ঠাকুরবাড়িতে চলতে থাকা অনশন কর্মসূচির আজ (Saturday) চতুর্থ দিন। শুক্রবার রাতে পরিস্থিতি জটিল আকার নেয়, যখন অনশন মঞ্চেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনজন অনশনকারী নগেন মণ্ডল, নারায়ণ বারুই এবং ত্রিনাথ ঘরামি। তাদের শরীরে low blood pressure) লক্ষণ দেখা দেওয়ায় সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকরা স্যালাইন দেওয়া শুরু করেন। যদিও শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়লেও তারা অনশন ভাঙতে রাজি নন বলেই জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন : Firhad Hakim : নথি সঠিক থাকলে কলকাতা পুর এলাকায় জন্মের শংসাপত্র সবাই পাবেন জানালেন ‘টক টু মেয়র’

জানা গিয়েছে, প্রথম দিন অর্থাৎ বুধবার (Wednesday) থেকে শুরু হয় তৃণমূল প্রভাবিত অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের (All India Matua Mahasangha) এই অনশন। শুরুতে ২৪ জন অংশ নেন, কিন্তু তিনজন অসুস্থতার কারণে অনশন ছাড়েন। বর্তমানে ২১ জন আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। বড়মা বীণাপানি দেবীর ঘরের সামনেই তৈরি হয়েছে এই অনশন মঞ্চ। অনশন মঞ্চে চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল (medical team) নিয়মিত নজর রাখছে। তাদের মধ্যে একজনের শারীরিক অবস্থা বেশ সংকটজনক বলেই জানা গেছে। মহাসংঘের সাংগঠনিক সম্পাদক নরোত্তম বিশ্বাস (Narottam Biswas) জানিয়েছেন, “যারা এখানে বসে অনশন করছেন, তারা প্রত্যেকেই বৈধ ভোটার। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় (voter list) তাদের নাম আছে। তবুও তাদের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, যা গভীর অপমান।”

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:-https://youtube.com/@thenewspole

অন্যদিকে, এই অনশন ঘিরে ঠাকুরবাড়ির অভ্যন্তরেও (Thakurbari conflict) তীব্র গোষ্ঠীকোন্দল দেখা দিয়েছে। একাংশের অভিযোগ, ঠাকুরবাড়ির পারিবারিক বিরোধের জেরে মতুয়া সমাজ (Matua community) বিভক্ত হয়ে পড়ছে। এসআইআর প্রকল্পকে ঘিরে হিন্দু শংসাপত্র (Hindu certificate) বিলি নিয়ে অসন্তোষ বেড়েছে। অনেকেই বলছেন, “আমরা জন্মসূত্রে হিন্দু, তবুও ১০০ টাকা খরচ করে কারও কাছ থেকে হিন্দু শংসাপত্র নিতে চাই না।” এই ইস্যুতে তৃণমূল ও বিজেপি (TMC vs BJP) দুই শিবিরের নেতাদের মধ্যে প্রকাশ্যে তোপ দাগা শুরু হয়েছে। বিজেপির সাংসদ শান্তনু ঠাকুর (Shantanu Thakur) ও বিধায়ক সুব্রত ঠাকুরকে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর (Mamatabala Thakur)। তার দাবি, “মতুয়া সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষার বদলে কেউ কেউ ব্যক্তিগত রাজনৈতিক স্বার্থে জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন।” বর্তমানে প্রশাসনের (administration monitoring) পক্ষ থেকে পুরো পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে। তবে মতুয়া সমাজের দাবি, যতদিন না এসআইআর(SIR) প্রক্রিয়া বন্ধ হচ্ছে, ততদিন অনশন চলবেই।