Stray Dogs : কলকাতার ৭৩ বছরের সুব্রতবাবু, নিজের অল্প আয়ে পথকুকুরদের খাওয়ান ভালোবাসা আর মানবিকতায়

কলকাতা

নিউজ পোল ব্যুরো: আজকের ব্যস্ত (busy lifestyle) জীবনে যখন সবাই নিজের স্বাচ্ছন্দ্য আর সুখের খোঁজে দিন কাটাচ্ছেন, তখনও কিছু মানুষ আছেন, যাদের জীবনের মূলমন্ত্র অন্যের পাশে থাকা। তেমনই এক অসাধারণ মানুষ কলকাতার সুব্রত দাস (Kolkata man feeds stray dogs)। বয়স তার ৭৩ বছর। নিজে সরকারি ক্যানটিনে মাত্র ৫ টাকায় ভাত খান, কিন্তু পথকুকুরদের (stray dogs) জন্য খরচ করেন নিজের উপার্জনের বেশিরভাগটাই। তার এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও মানবিকতা আজ বহু মানুষের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। সুব্রতবাবুর জীবনকাহিনি (life story) যেন এক চলচ্চিত্রের মতো। একসময় তিনি পেশায় অটোচালক ছিলেন। নিয়মিত আয়, সংসারে স্বচ্ছলতা—সবই ছিল। কিন্তু ২০১৬ সালে পারিবারিক অশান্তির কারণে ঢাকুরিয়ার বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে আসতে হয় তাকে। বাধ্য হয়ে বিক্রি করতে হয় নিজের অটো। জীবনের সেই কঠিন সময়েও ভেঙে পড়েননি তিনি। বরং গান ও বাদ্যযন্ত্র (musical instruments) হয়ে ওঠে তার জীবনের নতুন আশ্রয়।

আরও পড়ুন : Raj Bhavan : রাজভবনে গণবিবাহের আয়োজন, রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের তৃতীয় বর্ষপূর্তিতে ১০০ যুগলের বিয়ে এক ছাদের নিচে

বর্তমানে সুব্রতবাবু লেকমলের কাছে ফুটপাথে বসে গান বাজান। মাউথ অর্গান, তবলা, আর নানা বাদ্যযন্ত্রে মন ভরান পথচারীদের (street performers in Kolkata)। প্রতিদিন রাত আটটা থেকে এগারোটা পর্যন্ত গান বাজিয়ে কিছু টাকা রোজগার করেন। সেই টাকাতেই কেনেন পথকুকুরদের জন্য খাবার (dog food)। নিজের খাওয়া শেষে একে একে খাইয়ে দেন ওদের। রাত গভীর হয়ে গেলেও, কখনও কখনও তিনটে বাজলেও, তার মুখে ক্লান্তির ছাপ দেখা যায় না। বরং এক অদ্ভুত তৃপ্তি ঝরে পড়ে তার চোখে—কারণ, সেই মুহূর্তে তিনি অনুভব করেন জীবনের সত্যিকারের আনন্দ (true happiness)।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:-https://youtube.com/@thenewspole

বর্তমানে তিনি এক পশুপ্রেমীর (animal lover) বাড়িতে থাকেন। নিজের কথায়, “আমি বেশি কিছু করতে পারব না, কিন্তু যতটুকু পারি, ওদের মুখে একবেলা খাবার তুলে দিই এই আনন্দটাই সবচেয়ে বড়।” তাঁর এই সরল অথচ গভীর উপলব্ধিই মানবতার (humanity) সবচেয়ে বড় নিদর্শন। সুব্রত দাস প্রমাণ করে দিয়েছেন সহানুভূতি (compassion) আর ইচ্ছে থাকলে অর্থ কখনও বাধা নয়। আজ যখন অনেকেই নিজের স্বার্থে গুটিয়ে যাচ্ছেন, তখন এই প্রবীণ মানুষটি পথকুকুরদের পাশে দাঁড়িয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন মানবিকতা (kindness and empathy) এখনও জীবন্ত। তার কাজ সমাজকে মনে করিয়ে দেয়, ভালোবাসা মানে শুধু মানুষ নয়, প্রতিটি জীবের প্রতি দায়িত্ববোধও।