Child education: এমবিএ দিদিমণির মিশন কোড়া শিশুদের স্বপ্নের আলো দেখাচ্ছে শিক্ষা

শিক্ষা

নিউজ পোল ব্যুরো: বীরভূমের প্রত্যন্ত ঋণডাঙা গ্রামের কোড়া উপজাতির শিশুদের চোখে এখন জ্বলজ্বল করছে নতুন স্বপ্ন। একসময় যাদের দিন কেটেছে মাঠে কাজ করে বা পাড়ার ছোট দোকানে বসে, সেই ছোট্ট মুখগুলো আজ স্কুলমুখী। যদিও স্কুলটি বাংলা মাধ্যমে, মাতৃভাষা কোড়া হওয়ায় পড়াশোনায় বেশ অসুবিধা হয় তাদের। তবু হাল ছাড়েনি কেউ। কারণ তাদের পাশে আছেন শান্তিনিকেতনের তরুণী ঈশানী বিশ্বাস, যিনি নিজের এমবিএ ডিগ্রিকে পাশে সরিয়ে রেখে জীবন উৎসর্গ করেছেন শিশুদের শিক্ষা (Child education)-র জন্য।

আরও পড়ুন:Govinda: গোবিন্দ হাসপাতালে ভর্তি, গভীর রাতে শারীরিক অসুস্থতায় উদ্বেগ বলিউডে

ঈশানী প্রতিদিন ভোরে ঋণডাঙা গ্রামে যান। বিদ্যুৎবিহীন, ধুলো উড়তে থাকা পথ পেরিয়ে পৌঁছে যান গ্রামের সেই ছোট্ট উঠোনে, যেখানে বসে চলতে থাকে বাংলা শেখার পাঠ। সেখানে তিনি শুধু বাংলা অক্ষর শেখান না, শেখান গল্প, কবিতা, ছবি আঁকা, এমনকি মেয়েদের নিরাপত্তা সম্পর্কিত মৌলিক বিষয়ও। তাঁর হাতে হাত রেখে এই কোড়া শিশুরা এখন বুঝতে শিখছে শব্দ, গড়ছে বাক্য, আর ধীরে ধীরে খুলছে ভবিষ্যতের দরজা যা প্রকৃত অর্থে শিশুদের শিক্ষা (Child education)-র জয়গান। ২০১৯ সালে শুরু হওয়া এই যাত্রা আজ এক আলোকবর্তিকা। বর্তমানে ঈশানী ১৮ জন শিশুর দায়িত্ব নিয়েছেন। তাঁদের প্রত্যেকের বয়স ৫ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। তাঁদের অধিকাংশের পরিবার দিন আনে দিন খায়— কেউ ইটভাটায় কাজ করেন, কেউ বা মাঠে শ্রমিক। তবু সন্তানদের শিক্ষার (Child education) প্রতি তাঁদের আগ্রহ অবিচল। কারণ তারা জানে, শিক্ষাই পারে ভাগ্য বদলাতে।

ঈশানীর কথায়, “ওদের স্কুলে পড়া বুঝে নেওয়ার ক্ষমতা এখনও পুরো তৈরি হয়নি। তাই প্রতিদিন গিয়ে ওদের সঙ্গে বসে পড়া করাই। আমার খুব ভালো লাগে ওদের শেখার আগ্রহ দেখে।” গ্রামটিতে এখনও বিদ্যুৎ সংযোগ পুরো হয়নি, রোজের আহারে পান্তাই ভরসা। তবু, ঈশানীর মতো এক দিদিমণি তাঁদের জীবনে এনেছেন আশার আলো। তাঁর প্রচেষ্টা শুধু শিশুদের শিক্ষা (Child education)-র পথই প্রশস্ত করছে না, বরং প্রমাণ করছে ইচ্ছে থাকলে সীমাবদ্ধতা কোনো বাধা নয়। এই এমবিএ দিদিমণি আজ বীরভূমের ঋণডাঙায় এক প্রতীক— এক মিশন, যার নাম মানবতা, যার মর্মকথা শিশুদের শিক্ষা (Child education)।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole