Purulia : হাই কোর্টের নির্দেশে কবর খুঁড়ে দেহ তোলা পুরুলিয়ায়, জমি-বিতর্কে উত্তেজনা চাকদা গ্রামে

জেলা রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: পুরুলিয়ার(Purulia) চাকদা গ্রামে এক মৃতদেহ কবর থেকে তোলা ঘিরে চাঞ্চল্য। এক মাস আগে এক মহিলার মৃত্যু হয়। পরিবারের স্থানীয় রীতি অনুযায়ী তাকে গ্রামের পাশের একটি জমিতে কবর দেওয়া হয়। কিন্তু পরে জানা যায়, যে জমিতে দাফন করা হয়েছে, সেটির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা চলছিল। হাই কোর্টে(High Court) মামলার পর রায় ঘোষণার ভিত্তিতেই শনিবার প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে কবর খুঁড়ে মৃতদেহ অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে গিয়ে পুনরায় কবর দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

আরও পড়ুন : Ezra Street : কলকাতার এজরা স্ট্রিটে বহুতলে অগ্নিকাণ্ড, ফায়ার সেফটি নিয়ে উঠল প্রশ্ন

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৫৫ সাল থেকে ‘দ্য মাল্টিভার্সিটি অযাচক আশ্রম’-এর নামে পুরুলিয়া(Purulia) ১ নম্বর ব্লকের চাকদা গ্রামের লাগোয়া বেশ কিছু জমি নথিভুক্ত রয়েছে। পরে ২০১১ সালে আশ্রম কর্তৃপক্ষ আরও প্রায় ২ একর জমি ক্রয় করে। সেই জমির উপরে নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এলাকার মুসলিম সমাজের একাংশের অভিযোগ, আশ্রম কর্তৃপক্ষ যে জমি কিনেছে, বহু বছর ধরে তা কবরস্থান হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। সম্প্রতি এক মহিলার মৃত্যুর পর তার দাফনও হয় ওই বিতর্কিত জায়গাতেই। এই ঘটনার পর থেকেই আশ্রম কর্তৃপক্ষ প্রতিবাদ জানায়। তাদের দাবি, কবর দেওয়ার বিষয়টি তারা আগে জানতেন না। জমি তাদের মালিকানাধীন হওয়ায় সেখানে দাফন হওয়াটা বেআইনি। প্রথমে পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনও স্থায়ী সমাধান হয়নি। শেষ পর্যন্ত আশ্রম হাই কোর্টের(High Court) শরণাপন্ন হয়।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole

গত ১২ নভেম্বর কলকাতা হাই কোর্ট(High Court) আশ্রমের পক্ষে রায় দেয়। আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দেয়, আশ্রমের মালিকানাধীন জমি দখলমুক্ত করতে হবে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। আদালতের ওই নির্দেশ হাতে পেয়ে আশ্রম কর্তৃপক্ষ বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানায়। শনিবার সকালেই পুলিশ, ব্লক প্রশাসন, স্বাস্থ্য দফতরের কর্মী, আশ্রম কর্তৃপক্ষ এবং মৃতদেহের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। কোর্টের নির্দেশ এবং আইনি প্রক্রিয়া মেনে কবর খোঁড়া হয়। পরে মৃতদেহ তুলে স্থানীয় মুসলিম সমাজের পরামর্শে অন্যত্র কবর দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। ঘটনার পর গ্রামে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ আদালতের সিদ্ধান্তকে প্রয়োজনীয় বলে মনে করছেন, আবার কারও মতে, বহু বছর ধরে ব্যবহৃত কবরস্থান নিয়ে এভাবে দ্বন্দ্ব তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। তবে প্রশাসনের দাবি, সবকিছুই আইন মেনে এবং শান্তিপূর্ণভাবে করা হয়েছে।