নিউজ পোল ব্যুরো: দিল্লি বিস্ফোরণ মামলায় (Delhi Blast ) জড়িত থাকার সন্দেহে শনিবার রাতে বাংলার উত্তরের এক ডাক্তারি পড়ুয়াকে আটক করেছিল জাতীয় তদন্ত সংস্থা এনআইএ। শিলিগুড়ির এনআইএ দফতরে প্রায় পুরো রাত ধরে জিজ্ঞাসাবাদের পরে অবশেষে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে তদন্তকারীরা সতর্কতা হিসেবে বাজেয়াপ্ত করেছেন তাঁর মোবাইল ফোন এবং আরও কয়েকটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস ।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, আপাতত তাকে মুক্তি দিলেও প্রয়োজন পড়লে দিল্লির সদর দফতরে আবারও ডেকে পাঠানো হতে পারে। এই বিষয়ে ছাত্রটিকে লিখিতভাবে সতর্কও করা হয়েছে। শনিবার বিকেল থেকেই ঘটনার সূত্রপাত। জানিসুর ওরফে নিশার আলম নামে এক যুবক, যিনি পাঞ্জাবের লুধিয়ানার বাসিন্দা এবং ফরিদাবাদের আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে (Al Falah University MBBS Student) এমবিবিএস পড়ছেন, এসেছিলেন উত্তর দিনাজপুর জেলার ডালখোলার কোনাল গ্রামে। সেখানে তাঁর পৈতৃক বাড়ি রয়েছে এবং এক আত্মীয়ের বিয়ের নিমন্ত্রণে তিনি এসেছিলেন।
আশির দশকে তার বাবা কোনাল গ্রাম থেকে লুধিয়ানায় পাড়ি দেন এবং সেখানেই নিশারের বড় হয়ে ওঠা। পড়াশোনার সূত্রে তিনি বর্তমানে ফরিদাবাদে থাকেন। তবে আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন প্রাক্তন ছাত্রের বিরুদ্ধে ‘জঙ্গি কার্যকলাপে’ জড়িত থাকার সন্দেহে এনআইএ ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীকে আগেই নজরে রেখেছিল। সেই সূত্রেই নিশার আলম তদন্তকারীদের সন্দেহের তালিকায় ছিলেন। শনিবার দিনভর নজরদারিতে রেখে সন্ধ্যার পরে তাঁকে আটক করে শিলিগুড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তার বিদেশি যোগাযোগ, ফোনের ডেটা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য ছাত্রদের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগ নিয়ে। পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্তে আপাতত তাঁর কোনও সরাসরি ভূমিকা প্রমাণিত না হওয়ায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিশারকে ছেড়ে দেয় এনআইএ। তবে তাঁর ফোনের ডাম্প এবং ডিজিটাল ফরেনসিক রিপোর্ট মিলিয়ে দেখা হবে, আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও সন্দেহভাজন প্রাক্তন ছাত্র বা অন্য কোনও নাশকতামূলক গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল কি না।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:-https://youtube.com/@thenewspole
এনআইএ সূত্রের দাবি, দিল্লি বিস্ফোরণ মামলায় বাংলায় এটি প্রথম তল্লাশি নয়। এর আগে মুর্শিদাবাদের নবগ্রামে পরিযায়ী শ্রমিক মইনুল হাসানের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়েছিল। দিল্লিতে কাজ করার সময় এক বাংলাদেশির সঙ্গে থাকার কারণে মইনুলও সন্দেহের তালিকায় উঠে এসেছিলেন। তদন্তকারীদের মতে, বিস্ফোরণ মামলার সম্ভাব্য সব যোগাযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
