নিউজ পোল ব্যুরো: ইংল্যান্ডের (England) চালেই তাদের মাত দিল অস্ট্রেলিয়া। যে ‘বাজবল’ আক্রমণাত্মক ক্রিকেটে প্রতিপক্ষদের ভয় দেখায় ইংল্যান্ড, সেই তাদের স্টাইলকে উল্টো ব্যবহার করে অ্যাশেজের প্রথম টেস্টে দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া (Australia)। পার্থে মাত্র দুই দিনের মধ্যেই ৮ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল অজিরা।
পার্থ টেস্টের প্রথম দিন ছিল পুরোটাই বোলারদের দখলে। ব্যাট হাতে নেমেই ইংল্যান্ড গুটিয়ে যায় মাত্র ১৭২ রানে। জবাবে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়ার অবস্থাও ভালো ছিল না। প্রথম দিনের শেষেই তারা হারায় ৯ উইকেট।
আরও পড়ুন:India vs South Africa 2nd Test: গুয়াহাটিতে শেষ সেশনে জ্বলে উঠল ভারত, তবুও ভালো পজিশনে দক্ষিণ আফ্রিকা
দ্বিতীয় দিনের সকালে বাকি একটি উইকেট হারিয়ে অস্ট্রেলিয়া অলআউট হয় ১৩২ রানে। ফলে ইংল্যান্ড পেয়ে যায় ৪০ রানের লিড। কিন্তু এই লিড কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় ব্রিটিশরা। দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের আগুন ঝরা বোলিংয়ের মুখে তারা গুটিয়ে যায় ১৬৪ রানে। লিড দাঁড়ায় মাত্র ২০৪ রান।

মিচেল স্টার্ক (Mitchel Starc) তার ভয়ংকর স্পেল দিয়ে ইংলিশ ব্যাটিং লাইনআপকে একাই কাঁপিয়ে দেন। আর ব্যাট হাতে আসে আসল নাটক। ২০৫ রানের টার্গেটে নামতেই বাজবলকেই বাজিয়ে দিল অস্ট্রেলিয়া, তার বড় কারণ ট্রাভিস হেডের (Travis Head) বিধ্বংসী সেঞ্চুরি। মাত্র ৬৯ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করে হেড এদিন অ্যাশেজ ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম তিন অঙ্কের ইনিংস খেলার কীর্তি গড়েন। তার তাণ্ডব সামলানোর কোনো উপায় ছিল না ইংল্যান্ড বোলারদের। এর ফলে তিনি অস্ট্রেলিয়ার হয়ে টেস্টে দ্রুততম শতরানের তালিকায় যৌথ ভাবে তৃতীয় স্থানে পৌঁছে যান। একই সঙ্গে, টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এটি পঞ্চম দ্রুততম শতরানের রেকর্ড।

অ্যাশেজ সিরিজের ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় দ্রুততম শতরানের নজির। এ দিন তিনি গিলবার্ট জেসপের রেকর্ড ভেঙেছেন। জেসপ ১৯০২ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৭৬ বলে শতরান করেছিলেন। কিন্তু হেড তাঁকে ছাপিয়ে গিয়েছেন। প্রসঙ্গত, অ্যাশেজে দ্রুততম শতরানটি করেছেন অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, যিনি ২০০৬-০৭ অ্যাশেজ টেস্টে মাত্র ৫৭ বলে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
হেডের সেঞ্চুরি এবং আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের দাপটে অস্ট্রেলিয়া মাত্র ২৯ ওভারেই ৮ উইকেটে জয় তুলে নেয়। এই জয়ে দুই দিনের মাথায়ই টেস্টের সমাপ্তি ঘটে, যা আধুনিক অ্যাশেজ ইতিহাসে বিরল ঘটনা। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে ৪ ডিসেম্বর, ব্রিসবেনে। ইংল্যান্ড কি ফিরে দাঁড়াতে পারবে? নাকি অস্ট্রেলিয়া আরও এগিয়ে যাবে, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।
