West Bengal SIR: ভোটার তালিকায় বড়সড় খাঁড়া! বাংলায় বাদ ২৭ লক্ষ নাম, নজরদারিতে বিশেষ রোল অবজার্ভার

কলকাতা রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, দ্রুত এবং ত্রুটিমুক্ত করতে বড়সড় পদক্ষেপ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গের জন্য বিশেষভাবে একজন স্পেশাল রোল অবজার্ভার নিয়োগ করা হয়েছে। এই দায়িত্ব পেয়েছেন ১৯৯০ ব্যাচের আইএএস অফিসার সুব্রত গুপ্ত। কমিশনের তরফে তাঁর নিয়োগপত্র ইতিমধ্যেই জারি হয়েছে।

এর পাশাপাশি রাজ্যের প্রতিটি জেলায় আলাদা করে রোল অবজার্ভার নিয়োগ করা হয়েছে। মোট ১২টি গুরুত্বপূর্ণ জেলায় অভিজ্ঞ ১২ জন আইএএস আধিকারিককে এই দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। জেলা পর্যায়ে ডিইও (District Election Officer) অর্থাৎ জেলাশাসক এবং ইআরও–দের কাজ প্রতিনিয়ত পর্যালোচনা করা, কোথাও ভুল বা ব্যত্যয় থাকলে তা সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া এবং এসআইআরের প্রতিটি ধাপ যেন কমিশনের গাইডলাইন অনুযায়ী সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়—এই দায়িত্বই পালন করবেন তারা। এছাড়া কোনও রাজনৈতিক দল মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের (CEO) সঙ্গে দেখা করতে চাইলে আগাম সময় নিয়ে তবেই সাক্ষাৎ করা যাবে—এই মর্মে নতুন বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করেছে কমিশন।

আরও পড়ুন: Weather Update: দিনে রোদ, রাতে কনকনে ঠান্ডা! খামখেয়ালি আবহাওয়ায় নাজেহাল বঙ্গবাসী, ডিসেম্বরে জাঁকিয়ে শীতের ইঙ্গিত

সিইও দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, শুক্রবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত মোট ২৭ লক্ষ ৭১ হাজার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৫ লক্ষ মৃত ভোটার, ২ লক্ষ ৬১ হাজার নিখোঁজ, ৮ লক্ষ ৮৮ হাজার স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত এবং ৫৮ হাজার ১৬৪ জন ডুপ্লিকেট ভোটার হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন।

জাতীয় নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান বলছে, যেসব ১২টি রাজ্যে একযোগে এসআইআর চলছে, তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ সবচেয়ে বেশি অ্যানুমারেশন ফর্ম ডিজিটাইজড করেছে।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক: https://youtube.com/@thenewspole

বাংলায় ডিজিটাইজেশনের হার ৮৭.৯১ শতাংশ, যা উল্লেখযোগ্যভাবে দেশের শীর্ষে। এখানে প্রায় ৬ কোটি ৭৩ লক্ষ ৬৮ হাজারের বেশি ভোটারের তথ্য ডিজিটাইজড হয়েছে। এদিন বিকেল তিনটে পর্যন্ত জমা পড়েছে প্রায় ৭ কোটি ৬৫ লক্ষ ৫ হাজার ৯৮৫টি ফর্ম, যা ৯৯.৮৩ শতাংশ। ফর্ম ৬, ৭ এবং ৮–এর ক্ষেত্রে অনলাইন আবেদনে আধারভিত্তিক ই-সই এখন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যাতে ভুয়ো আবেদন বা তথ্য গরমিল রোধ করা যায়। দক্ষিণ ও উত্তর ২৪ পরগনায় ডিজিটাইজেশন হার যথাক্রমে ৮৪ ও ৭৯ শতাংশ। কলকাতা উত্তর ও দক্ষিণে হার ৬১ ও ৬৫ শতাংশ বলে জানানো হয়েছে। খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর মৃত, স্থানান্তরিত, নিখোঁজ ও ডুপ্লিকেট ভোটারের পৃথক তালিকা দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে কত সংখ্যক এনুমারেশন ফর্ম নন সাবমিশন রয়েছে, সেটিও আলাদা বিভাগে প্রকাশ করা হবে বলে সিইও দপ্তর জানিয়েছে।