নিউজ পোল ব্যুরো: সরকারি নথি অনুযায়ী গত সাত মাসে শুধু পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাতেই AIDS–সহ একাধিক জনস্বাস্থ্য-সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়ছে (World Aids Day)। বিশেষ করে ঘাটাল, খড়গপুর এবং মেদিনীপুর সদর মহকুমা এই তিন এলাকায় সংক্রামিত রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। গর্ভবতী মহিলাদের মধ্যেও সংক্রমণের হার যে উদ্বেগের, তা মানছে নিজেই জেলা স্বাস্থ্য দফতর। যদিও গত কয়েক বছরের তুলনায় মোট সংখ্যা খানিকটা কমেছে, তবুও বিষয়টিকে সতর্কতামূলক ভাবেই দেখছেন স্বাস্থ্য আধিকারিকরা।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে অক্টোবর এই সাত মাসে মোট ৩২,৪৫৩ জনের রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তার মধ্যে ১০৬ জনের রিপোর্টে এইচআইভি পজিটিভ ধরা পড়ে। এঁদের প্রায় সকলেই বর্তমানে নিয়মিত চিকিৎসাধীন। একই সময়ে ৪৭২০ গর্ভবতী মহিলার রক্ত পরীক্ষা করা হয়, যার মধ্যে ১৩ জন এইচআইভি পজিটিভ এবং ৬ জন সিফিলিসে আক্রান্ত বলে রিপোর্টে উঠে আসে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ডেবরায় ১৬, ঘাটালে ২৪, খড়গপুরে ২৮ এবং মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৭৩ জনের শরীরে এইচআইভি জীবাণু শনাক্ত হয়েছিল। এবছর অক্টোবর পর্যন্ত সেই সংখ্যাগুলি নেমে এসেছে যথাক্রমে ডেবরায় ৫, ঘাটালে ১৮, খড়গপুরে ১৫ এবং মেদিনীপুরে ৩৫-এ।

একসময় অভিযোগ উঠত—ঘাটাল মহকুমা নাকি “এডসের আঁতুড়ঘর”। সেখানকার পরিযায়ী শ্রমিকদের (migrant workers) বড় অংশ মুম্বই, দিল্লি-সহ বিভিন্ন শহরে সোনা-রুপোর কাজ ও জরির ব্যবসায় যুক্ত থাকায় তাদের মধ্যেই সংক্রমণের হার বেশি পাওয়া যেত। দীর্ঘদিন বাড়ি থেকে দূরে থাকা, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন কিংবা অন্যান্য সামাজিক কারণকে দায়ী করা হত। যদিও বর্তমানে সেই প্রবণতা অনেকটাই কমেছে বলে দাবি প্রশাসনের। সূত্রের খবর, চিহ্নিত রোগীদের প্রায় সকলকেই চিকিৎসার আওতায় আনা হয়েছে। তারা নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। জেলা জুড়ে সারা বছর ধরে সচেতনতা শিবির, কাউন্সেলিং ক্যাম্প ও প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি সম্পূর্ণা, স্পর্শ, অগ্রগামী মহিলা ও শিশু মঙ্গল সমিতি–সহ একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে নিয়মিত উদ্বুদ্ধকরণ শিবির করে সাধারণ মানুষকে সচেতন করে চলেছে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:-https://youtube.com/@thenewspole
