Governor CV Ananda Bose speech:”ধর্ম নয়, মানবিকতাই বাংলার শক্তি” ৫ লক্ষ কণ্ঠের গীতাপাঠে বার্তা রাজ্যপালের!

রাজনীতি রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো:রবিবার সকালে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে তৈরি হয়েছিল এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য। সনাতন সংস্কৃতি মঞ্চের উদ্যোগে আয়োজিত ‘পাঁচ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ’ (Governor CV Ananda Bose speech) অনুষ্ঠানে শহর থেকে জেলা— সর্বত্র থেকে ভোর থেকেই মানুষের ঢল নামে। দেশজুড়ে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উপস্থিত হন বহু সাধু-সন্ত, ফলে ব্রিগেড রূপ নেয় এক বিশাল ধর্মীয় সমাবেশে। আধ্যাত্মিকতার আবহের মধ্যেই দিনের প্রধান আকর্ষণ ছিলেন রাজ্যপাল সি.ভি. আনন্দ বোস।

আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2025/12/07/vande-mataram-150-years-parliament-10-hour-special-discussion/

মঞ্চে উঠে ভাষা প্রসঙ্গ দিয়েই বক্তব্য শুরু করেন তিনি। জানিয়ে দেন, হিন্দি দেশের রাষ্ট্রভাষা, তাই সেদিন তিনি হিন্দিতেই কথা বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইংরেজিকে তিনি ব্যঙ্গ করে ‘দাইমা’র সঙ্গে তুলনা করে বলেন, “দাইমা কখনও মা হতে পারে না।” এরপরই রাজ্যপাল ইঙ্গিতপূর্ণ সুরে ‘ধর্মীয় ঔদ্ধত্য’-এর বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দেন। নাম না করে মুর্শিদাবাদের রেজিনগর–বেলডাঙায় ‘বাবরি’ মসজিদের শিলান্যাসের প্রসঙ্গ টেনে তাঁর মন্তব্য— বাংলা কোনওভাবেই ধর্মের নামে ঔদ্ধত্য মেনে নেবে না। মানুষের শক্তিকেই তিনি বাংলার হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরে বলেন, “শত্রু সামনে দাঁড়িয়ে আছে, বাংলা প্রস্তুত ধর্মীয় ঔদ্ধত্যের অবসান ঘটাতে এবং দেশের দুর্দশায় ভূমিকা নিতে।”

রাজ্যপালের এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। বেলডাঙার বিতর্কে তাঁর বক্তব্যের সরাসরি ইঙ্গিত দেখছেন অনেকেই। এ দিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব— বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, অগ্নিমিত্রা পাল ও লকেট চট্টোপাধ্যায়। তাঁরা প্রত্যেকেই মঞ্চে উঠে গীতাপাঠে অংশ নেন।

বিপুল ভিড়ের কথা মাথায় রেখে ব্রিগেডের নিরাপত্তা ও আয়োজন ছিল নজরকাড়া। ভিভিআইপি ও সাধারণ মানুষের জন্য ছিল মোট ২৫টি প্রবেশদ্বার। স্থাপন করা হয় তিনটি আলাদা মঞ্চ— মূল মঞ্চ ‘পার্থসারথি’, আর দুটি মঞ্চ ‘শঙ্করাচার্য’। সকাল আটটায় প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, আরতি, বেদপাঠ ও হরিনাম সংকীর্তনের মাধ্যমে শুরু হয় দিনের আনুষ্ঠানিকতা। এরপর নির্ধারিত সময়ে লক্ষাধিক মানুষের সম্মিলিত গীতাপাঠে (Governor CV Ananda Bose speech) ব্রিগেড ভেসে যায় আধ্যাত্মিক আবহে। দিনভর ভক্তিমূলক সংগীত, কীর্তন এবং সাধু-সন্তদের উপস্থিতিতে ব্রিগেডে তৈরি হয় একাত্মতার পরিবেশ।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্কhttp://:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT

ধর্মীয় অনুষ্ঠান হলেও রাজ্যপালের বক্তব্য এবং বিজেপি নেতাদের উপস্থিতিতে আয়োজনে স্পষ্ট হয়ে ওঠে রাজনৈতিক তাৎপর্যও। সব মিলিয়ে রবিবারের ব্রিগেড সমাবেশ ধর্মীয় আবেগের প্রকাশের পাশাপাশি বাংলার রাজনীতিতেও এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা রেখে গেল।