Humayun Kabir new party: মুর্শিদাবাদে তৃণমূল শূন্য করার ফর্মুলা, সোমবার নতুন দল ঘোষণা হুমায়ুন কবীরের!

রাজনীতি রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো:মুর্শিদাবাদে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে শূন্য করার ডাক দিয়ে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের কথা ঘোষণা করলেন বেলডাঙার তৃণমূল বিধায়ক ও বর্তমানে সাসপেন্ডেড নেতা হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir new party)। সোমবার, ২২ ডিসেম্বর, বেলডাঙার মির্জাপুর খাগরু পাড়ার মোড়ে এক জনসভা থেকে তিনি নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটাতে চলেছেন বলে জানান। দুপুর বারোটায় শুরু হতে চলা এই সভায় জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সারা বাংলার মানুষকে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। হুমায়ুন কবীরের দাবি, প্রায় ৫০ বিঘা জমির উপর আয়োজিত এই সভায় উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদা, মুর্শিদাবাদ ছাড়াও পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি ও বর্ধমান থেকে বহু মানুষ যোগ দেবেন।

আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2025/12/21/india-warns-bangladesh-over-killing-of-hindu-youth-dipuchandra-das/

হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir new party) জানিয়েছেন, নতুন দলের নাম হতে পারে ‘বাংলার জনতা পার্টি’। একই সঙ্গে তিনি মুর্শিদাবাদের ২২টি বিধানসভা আসন নিয়ে নিজের রাজনৈতিক ফর্মুলাও প্রকাশ করেন। তাঁর প্রস্তাব অনুযায়ী, নিজের দল ৯টি আসনে লড়াই করবে এবং বাকি ১৩টি আসন কংগ্রেস, সিপিএম ও আইএসএফের মধ্যে ছেড়ে দেওয়া হবে। কংগ্রেস ও সিপিএমকে তিনটি করে এবং আইএসএফকে একটি আসন দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে এই দলগুলির সঙ্গে জোটে আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। হুমায়ুনের বক্তব্য, এই সমীকরণ বাস্তবায়িত হলে মুর্শিদাবাদে তৃণমূল কার্যত শূন্য হয়ে যাবে।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে হুমায়ুন কবীর বলেন, তাঁকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হতে আর বেশি সময় লাগবে না। অভিযোগ করেন, মন্দির-মসজিদের রাজনীতি করে ভোটে জেতার চেষ্টা করছেন মুখ্যমন্ত্রী। সিঙ্গুর থেকে ন্যানো কারখানা তাড়ানোর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেই সিদ্ধান্তের প্রভাব আজও রাজ্যের অর্থনীতিতে পড়ছে। রাজ্য প্রশাসন ও তৃণমূল নেতৃত্বকেও নিশানা করে হুমায়ুন কবীর দাবি করেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে লক্ষ লক্ষ নাম বাদ যাচ্ছে, যার ফলে নির্বাচনে জিতে আসা কঠিন হয়ে পড়বে।

এখানেই থামেননি তিনি। সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও তীব্র অভিযোগ তুলে হুমায়ুন কবীর বলেন, বিএসএফের নাম করে সীমান্ত কার্যত খুলে দেওয়া হয়েছে এবং পুলিশ প্রশাসন অনুপ্রবেশের ক্ষেত্রে নীরব দর্শকের ভূমিকা নিচ্ছে। তাঁর দাবি, সারা দেশে যেখানে শান্ত পরিবেশ রয়েছে, সেখানে একমাত্র বাংলাতেই বোমা-বন্দুকের শব্দ শোনা যাচ্ছে। রাজনৈতিক হিংসা ও দুর্নীতি রাজ্যে চরমে পৌঁছেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্কhttp://:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT

বিজেপি প্রসঙ্গেও মন্তব্য করতে গিয়ে হুমায়ুন কবীর বলেন, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি বাংলায় ১০০টির বেশি আসন পেতে পারে। বিজেপির উত্থান ঠেকানো এবং একই সঙ্গে তৃণমূলকে রাজ্য রাজনীতি থেকে কোণঠাসা করতেই নতুন রাজনৈতিক শক্তির প্রয়োজন রয়েছে বলে তাঁর দাবি। পাশাপাশি কোভিড পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মচারীরা কীভাবে বঞ্চিত হয়েছেন, সেই বিষয়টিও তিনি সামনে আনেন এবং রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সব মিলিয়ে, বেলডাঙার মাটি থেকেই নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশের মাধ্যমে রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় আলোড়ন তুলতে চলেছেন হুমায়ুন কবীর—এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।