নিউজ পোল ব্যুরো:অরাজকতার সীমা ছাড়ানো বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে এবার কড়া বার্তা দিল ভারত (India warns Bangladesh)। সংখ্যালঘু হিন্দু যুবক দীপুচন্দ্র দাসের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে রবিবার বিবৃতি জারি করেছে ভারতের বিদেশমন্ত্রক। পাশাপাশি, দিল্লিতে বাংলাদেশের দূতাবাসে হামলার গুজব উড়িয়ে দিয়ে দূতাবাসের নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের অবস্থানও স্পষ্ট করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2025/12/21/mohan-bhagwat-west-bengal-rss-centenary-bjp-rss-clarification/
বিদেশমন্ত্রকের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিভ্রান্তিমূলক খবর ভারতের নজরে এসেছে। তবে প্রকৃত ঘটনা হল, ২০ ডিসেম্বর দিল্লিতে বাংলাদেশের দূতাবাসের সামনে মাত্র ২০-২৫ জন যুবক শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ দেখান। ওই বিক্ষোভের উদ্দেশ্য ছিল দীপুচন্দ্র দাসের হত্যার প্রতিবাদ এবং বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার দাবি। কোনওরকম হামলা বা নিরাপত্তা বিঘ্নের চেষ্টা হয়নি। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী, কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত (India warns Bangladesh)। বিদেশমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে এবং সেখানকার প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা হয়েছে। দীপুচন্দ্র দাসের হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার দাবিও বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হয়েছে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্কhttp://:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাতে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়াতেই বাংলাদেশ জুড়ে হিংসার আগুন ছড়িয়ে পড়ে। সেই হিংসার শিকার হন সংখ্যালঘু হিন্দু যুবক দীপু দাস। ময়মনসিংহের মোকামিয়াকান্দা গ্রামের বাসিন্দা দীপু গত দু’বছর ধরে ভালুকার একটি কারখানায় কর্মরত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ একদল বিক্ষোভকারী কারখানায় ঢুকে ভাঙচুর চালায়। এরপর দীপুকে টেনে হিঁচড়ে বাইরে বের করে এনে গণপিটুনি দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা দীপুর দেহ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে নিয়ে গিয়ে গাছে বেঁধে আগুন ধরিয়ে দেয়। স্লোগান চলতে থাকে, অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে রাস্তা। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
কী কারণে দীপুকে হত্যা করা হল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সূত্রের দাবি, ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ তুলে তাঁকে খুন করা হয়েছে। তবে নিহতের পরিবার এই দাবি মানতে নারাজ। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে, আর সেই প্রেক্ষিতেই কড়া অবস্থান নিল ভারত।
