Malda: প্রার্থী ঘোষণার পরই সাসপেন্ড সিভিক ভলান্টিয়ার, জয়ের চ্যালেঞ্জ নিলেন মুজকেরা বিবি

জেলা রাজনীতি রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir) নতুন রাজনৈতিক দলে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েই চাকরি হারানোর অভিযোগ তুললেন এক সিভিক ভলান্টিয়ার। মালদহের বৈষ্ণবনগর বিধানসভা কেন্দ্রের বাসিন্দা মুজকেরা বিবির দাবি, হুমায়ুন কবীর ঘোষিত ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’র প্রার্থী হওয়ার পরই তাঁকে সিভিক ভলান্টিয়ারের কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি রাতারাতি তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এই ঘটনাকে ঘিরে মালদহের (Malda) রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা।

আরও পড়ুন: Mamata Banerjee: বছরশেষে উৎসবের বার্তা, নিজের লেখা গানে শুভেচ্ছা মুখ্যমন্ত্রীর

চাকরি হারালেও কোনও আক্ষেপ নেই মুজকেরা বিবির। তাঁর কথায়, এখন তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল নির্বাচনের ময়দানে লড়াই করা এবং জিতে দেখানো। তিনি মনে করেন, মানুষের সমর্থন থাকলে চাকরি চলে যাওয়াও তাঁর রাজনৈতিক লড়াইকে থামাতে পারবে না। যদিও পুলিশের তরফে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রের দাবি, মুজকেরা বিবি দীর্ঘদিন নিয়মিত কাজে যোগ দিচ্ছিলেন না। সিভিক ভলান্টিয়ারদের জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ীই তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি হুমায়ুন কবীর নতুন রাজনৈতিক দল ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’র আত্মপ্রকাশ ঘটান। সেই সঙ্গে আগামী বিধানসভা নির্বাচনের জন্য একাধিক কেন্দ্রে প্রার্থীর নামও ঘোষণা করেন তিনি। মালদহের (Malda) বৈষ্ণবনগর কেন্দ্র থেকে ওই দলের প্রার্থী হিসেবে মুজকেরা বিবির নাম ঘোষণা হতেই বিতর্কের সূত্রপাত। মুজকেরা বিবির অভিযোগ, প্রার্থী হিসেবে নাম প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে সিভিক ভলান্টিয়ারের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

মুজকেরা বিবি (Malda) বৈষ্ণবনগরের বিননগর-১ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সক্রিয়ভাবেই দলের কাজ করতেন। তাঁর স্বামী কুরবান আনসারীও তৃণমূলের স্থানীয় নেতা হিসেবে পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুজনেই তৃণমূল ছেড়ে হুমায়ুন কবীরের দলে যোগ দেন। কুরবান আনসারীর বক্তব্য, আগামী ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন মূলত তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির (BJP) মধ্যে লড়াই হবে এবং তাতে তৃণমূল তৃতীয় স্থানে থাকবে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, এই নির্বাচনে তৃণমূল (TMC) কোনও বড় ফ্যাক্টর হবে না।

এই মন্তব্যকে গুরুত্ব দিতে নারাজ জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। মালদহ জেলা তৃণমূলের মুখপাত্র আশীষ কুণ্ডু কটাক্ষ করে বলেন, হুমায়ুন কবীর প্রতিদিন বক্তব্য বদলাচ্ছেন এবং তাঁর দল ভোটে নোটার থেকেও কম ভোট পাবে। অন্যদিকে, পরিস্থিতির সুযোগ নিতে ময়দানে নেমেছে বিজেপি। দক্ষিণ মালদা বিজেপির সহ-সভাপতি তারক ঘোষের দাবি, হুমায়ুন কবীরের দল আসলে তৃণমূলেরই এক শাখা। বিজেপির লক্ষ্য ২০২৬ সালের নির্বাচনে এই সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানো। এত বিতর্কের মধ্যেও মুজকেরা বিবি আত্মবিশ্বাসী তাঁর বিশ্বাস, সব বাধা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত জয়ের মুখ দেখবেন তিনি।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole