নিউজ পোল ব্যুরো: দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে কাটতে চলেছে ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (ISL) নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা। সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের (AIFF) গড়ে দেওয়া তিন সদস্যের বিশেষ কমিটির প্রস্তাব মেনেই দেশের এই শীর্ষ লিগ আয়োজনে সম্মত হতে চলেছে ক্লাবগুলি। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতেই মাঠে গড়াতে পারে আইএসএল। বছর শেষে এমনই আশার বাণী উঠে এল কমিটি ও ক্লাবগুলির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর।
আরও পড়ুন: Vijay Hazare Trophy : ঘরোয়া ক্রিকেটেও হিট রো-কো, একইদিনে সেঞ্চুরি বিরাট ও রোহিতের
শুক্রবার ফেডারেশনের বিশেষ কমিটির সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন ক্লাব প্রতিনিধিরা। সূত্রের খবর, সেখানে লিগের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কমিটির দেওয়া প্রস্তাবেই সায় দিতে চলেছে ক্লাব জোট। গত বুধবারই নিজেদের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা সেরে রেখেছিলেন ক্লাব কর্তারা। সেখানেই ঠিক হয়েছিল, লিগের ভবিষ্যৎ ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি নিয়ে দুই পক্ষই নিজেদের মতো করে প্রস্তাবনা তৈরি করবে। সেই অনুযায়ী শুক্রবারের বৈঠকে উভয় পক্ষের আলোচনার পর মোটামুটি ঐকমত্যে পৌঁছেছে দুই শিবির।

তবে এখনই সরকারিভাবে কিছু ঘোষণা করা হচ্ছে না। আগামী ২৯ ডিসেম্বর এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে। ফেডারেশনের কমিটির প্রস্তাব ও ক্লাবগুলির সম্মতির ফলে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কেটে বল যে শীঘ্রই মাঠে গড়াতে চলেছে, তা একপ্রকার নিশ্চিত। বছরের শেষে ভারতীয় ফুটবলের এই জট কেটে যাওয়ার খবরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন ফুটবল প্রেমীরা।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
এদিন নয়াদিল্লিতে বৈঠকে মোহন বাগান, এফসি গোয়া, দিল্লি এফসি, নর্থইস্ট কর্তারা ছিলেন। তাঁরাই জোটের প্রতিনিধিত্ব করেন। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বিষয়টি স্পষ্ট করতে চান তাঁরা। আসলে নানা কারণে ফেডারেশনের উপর বিরক্ত ক্লাব ও ফ্র্যাঞ্চাইজি। উদাসীন মনোভাব ও সমস্যা সমধানে কল্যাণ চৌবেদের অহেতুক গড়িমসি সমস্যা আরও বাড়িয়েছে। গত ৮ ডিসেম্বর এফএসডিএলের সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়েছে। বর্তমানে ভারতীয় ফুটবলে কোনও কমার্শিয়াল পার্টনার নেই। অনেকেরই ধারণা, ফেডারেশন আগে উদ্যোগ নিলে সমস্যা এড়ানো যেত। বিশেষ করে সভাপতি কল্যাণ চৌবে দায়িত্ব পালনে ডাহা ব্যর্থ। বারবার তাই দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা চাইছে ক্লাব জোট। এক টেবিলে আলোচনায় দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিশ্চিত করতে চান তাঁরা। কিন্তু সবার আগে মাঠে বল গড়ানো জরুরি। এদিন বৈঠকে তা বুঝিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি অন্য সমস্যাও রয়েছে। বিশেষ করে শীর্ষ লিগে এখনই রেলিগেশন চালু করা নিয়ে অনেকেই দ্বিধাগ্রস্ত। সেক্ষেত্রে ধীরে চলো নীতি নেওয়া হতে পারে। তবে সব প্রস্তাব কার্যকর করতে দেশের সুপ্রিম আদালতের সবুজ-সংকেত প্রয়োজন। তাই আটঘাট বেঁধে পা ফেলতে চাইছে তিন সদস্যের কমিটি।
এদিকে, মুম্বইয়ের সঙ্গে গাঁটছড়া ভাঙতে চলেছে সিটি গ্রুপ। ফেডারেশনকে তা জানিয়ে দিল বাণিজ্য নগরের ফ্র্যাঞ্চাইজি দলটি। ফলে আর্থিক সমস্যা মাথাচাড়া দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের শীর্ষ লিগ চালু হলে মুম্বই কতটা দল গড়তে পারবে, তা নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
