Abhishek Banerjee: ২০২৬-এর ভোটের আগে জনসংযোগে জোর, তৃণমূল নেতা-কর্মীদের স্পষ্ট নির্দেশ অভিষেকের

কলকাতা রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন থেকেই সংগঠনকে চাঙ্গা করতে কোমর বেঁধে নামলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। বর্ষশেষের উৎসবের আবহের মধ্যেও দলীয় নেতা-কর্মীদের জন্য স্পষ্ট বার্তা দিলেন তিনি জনসংযোগে কোনও রকম ঔদ্ধত্য নয়, আচরণেই যেন প্রতিফলিত হয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সংগ্রামী ভাবমূর্তি। শুক্রবার প্রায় সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার নেতা-কর্মীকে নিয়ে একটি ভারচুয়াল বৈঠক করেন অভিষেক।

আরও পড়ুন: Malda: সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগে প্রতিবাদ, মালদহ শহরের হোটেলগুলিতে ঢুকতে পারবেন না বাংলাদেশিরা

বৈঠকে অভিষেক (Abhishek Banerjee) স্পষ্ট করে বলেন, মানুষের সঙ্গে কথা বলার সময় বিনয়ই হবে দলের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাঁর কথায়, “মানুষের ব্যবহারই মানুষের আসল পরিচয়। আপনার আচরণে যেন সাধারণ মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) লড়াই ও দর্শনকে দেখতে পান।” দলীয় কর্মীদের অহংকার ও ক্ষমতার দাপট বর্জনের নির্দেশ দিয়ে তিনি জানান, মানুষের কাছে পৌঁছনোর ক্ষেত্রে মন খুলে কথা বলাই সবচেয়ে জরুরি।

আগামী বিধানসভা ভোটকে লক্ষ্য করে তৃণমূল যে দ্বিমুখী কর্মসূচি নিচ্ছে, তাও এদিন স্পষ্ট করেন অভিষেক। মুখ্যমন্ত্রী ঘোষিত ‘উন্নয়নের পাঁচালি’র পাশাপাশি চলবে তাঁর নিজস্ব কর্মসূচি ‘উন্নয়নের সংলাপ’। এই কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ সরাসরি মানুষের কাছে তুলে ধরা হবে। তিনি বলেন, “যাঁদের কাছে যাবেন, তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় মাথা থেকে সরিয়ে রাখুন। কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে রাজ্যের প্রাপ্য প্রায় দু’লক্ষ কোটি টাকা এখনও বকেয়া। তা সত্ত্বেও আমরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, রাস্তা, আবাসের ঘর সবই দিয়েছি। এই বাধা সত্ত্বেও উন্নয়নের গতি থামেনি, বিজেপি তা আটকে দিতে পারেনি।”

নতুন বছরের প্রথম দিন, অর্থাৎ ১ জানুয়ারি থেকেই শুরু হচ্ছে এই নতুন জনসংযোগ কর্মসূচি। রাজ্যজুড়ে প্রায় ১৮০০ জন ‘ইনফ্লুয়েন্সার’ চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২০০ জনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করবেন মন্ত্রী ও সাংসদরা। বাকি অংশের দায়িত্বে থাকবেন বিধায়ক ও জেলা নেতৃত্ব। এই উদ্যোগের নাম দেওয়া হয়েছে ‘বাংলার সমর্থনের সংযোগ’। রাজ্যজুড়ে মোট ৩৮টি টিম গঠন করা হয়েছে, যেখানে সাংসদ, মন্ত্রী ও বিধায়করা থাকবেন। এক মাসের মধ্যেই এই কাজ শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও বৈঠকে এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত বিষয়েও আলোচনা করেন অভিষেক (Abhishek Banerjee)। তিনি জানান, আগামী দেড় থেকে দু’মাস একদিকে যেমন এসআইআর-এর কাজ চলবে, তেমনই জেলা ভিত্তিতে কো-অর্ডিনেটর নিয়োগ করা হবে। এই কো-অর্ডিনেটররা মাঠপর্যায়ে চোখ-কান হয়ে কাজ করবেন এবং বাস্তবে জনসংযোগ কতটা হচ্ছে, তার রিপোর্ট দেবেন। জেলা সভাপতি ও চেয়ারম্যানরা নিজেদের মতো দায়িত্ব পালন করবেন, আর সামগ্রিক সমন্বয়ের দায়িত্ব থাকবে জেলা কো-অর্ডিনেটরদের উপর। সব মিলিয়ে, ভোটের অনেক আগে থেকেই সংগঠনকে মানুষের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলতেই এই কৌশল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole