নিউজ পোল ব্যুরো:নিউটাউনে শুরু হচ্ছে বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের নতুন অধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সোমবার তার বাস্তবায়নের প্রথম দিন। নিউটাউন বাসস্ট্যান্ডের বিপরীতে অ্যাকশন এরিয়া–ওয়ানের প্রায় ১৭ একর বিস্তীর্ণ জমিতে নির্মিত হতে চলেছে ‘দুর্গাঙ্গন’। সোমবার সেই প্রকল্পের শিলান্যাস ও ভিতপুজোর মধ্য দিয়ে সূচনা হবে রাজ্যের এই বৃহৎ সাংস্কৃতিক পরিকাঠামো তৈরির কাজের। উপস্থিত থাকবেন বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা। হিডকোর তত্ত্বাবধানে নির্মিত হবে দুর্গাঙ্গন, যার ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৬১ কোটি ৯৯ লক্ষ টাকা। সরকারের পরিকল্পনা, দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে ২০২৭ সালের মধ্যেই সম্পূর্ণ রূপে গড়ে তোলা হবে এই প্রকল্পকে।
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2025/12/28/mann-ki-baat-2025-indias-success-confidence-narendra-modi/
বাংলার দুর্গাপুজো শুধু উৎসব নয়, বাঙালি সংস্কৃতির প্রাণস্পন্দন। সেই আবেগ, ইতিহাস ও শিল্পরূপকেই বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি। ২০২১ সালে ‘ওয়ার্ল্ড ইনট্যাংজিবল কালচারাল হেরিটেজ’-এর মর্যাদা পাওয়ার পর থেকেই আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আরও বেশি মাত্রায় এসে পড়েছে বাংলার দুর্গোৎসবের উপরে। সেই আলোই ধরে রাখতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এই ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত করে রাখতে মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) ঘোষণা করেছিলেন—গড়ে উঠবে একটি স্থায়ী দুর্গা-সংস্কৃতি কেন্দ্র। গত ২১ জুলাই ধর্মতলার শহিদ দিবসের সভামঞ্চ থেকে জনসমক্ষে সেই ঘোষণা করেন তিনি। কথা মতোই এবার কাজও শুরু হচ্ছে।
দুর্গাঙ্গনের পরিকল্পনায় যত্নের ছাপ স্পষ্ট। প্রাথমিক নকশা অনুযায়ী মূল প্রবেশদ্বারটি সাজানো হবে মন্দিরের স্থাপত্যশৈলীতে। প্রবেশমুখ থেকেই বিস্তৃত সবুজ ভূমি দর্শনার্থীদের স্বাগত জানাবে। সেই সবুজের বুক চিরে মার্বেলের পথ ধরে পৌঁছনো যাবে মূল উপাসনাক্ষেত্রে, যেখানে থাকবে মা দুর্গার নিত্যপুজোর ব্যবস্থা। শুধু ধর্মীয় কেন্দ্র নয়, এখানে থাকবে সাংস্কৃতিক ও শিল্পচর্চার নানা আয়োজন—শিল্প প্রদর্শনী, গবেষণা, সেমিনার, কর্মশালা, লোকসংস্কৃতির পাঠশালা, এমনকি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত পর্যটকদের জন্য বিশেষ প্রদর্শনীও। বাঙালি সংস্কৃতির প্রতীকী এই স্থাপনা দেশ–বিদেশের মানুষকে বাংলা ঐতিহ্যের আরও কাছে নিয়ে আসবে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্কhttp://:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
রাজ্য প্রশাসনের আশা, নির্মাণ সম্পূর্ণ হলে দুর্গাঙ্গন হয়ে উঠবে পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম বৃহৎ পর্যটন আকর্ষণ। কলকাতা শহরের আধুনিক নতুন কেন্দ্র নিউটাউনের সঙ্গে সাংস্কৃতিক পরিচয়ও নতুন মাত্রা পাবে। শুধু উৎসবের সময় নয়, সারাবছরই সাংস্কৃতিক চর্চার এক উন্মুক্ত ক্ষেত্র হয়ে থাকবে এই পরিকাঠামো।
অবশ্য রাজনৈতিক মহলে এই প্রকল্পকে ঘিরে ইতিমধ্যেই মতবিভেদ স্পষ্ট। বিরোধীদের দাবি, নির্বাচনকে সামনে রেখে আবেগকে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে সরকার। তবে শাসক শিবিরের বক্তব্য, বাংলার সংস্কৃতির মর্যাদা রক্ষার জন্য এমন উদ্যোগ সময়ের দাবি ছিল। মানুষের অনুভূতিকে সম্মান জানাতেই এই সিদ্ধান্ত—তার প্রমাণ আজকের শিলান্যাস।
একদিকে যখন ভিন্নমত ও রাজনৈতিক সমালোচনার ঝড়, অন্যদিকে মানুষের প্রত্যাশা— ইউনেস্কো স্বীকৃতির আলোয় স্নান করে বিশ্বমঞ্চে আরও উজ্জ্বল হোক বাংলার দুর্গোৎসব। সেই আশা নিয়েই শুরু হচ্ছে দুর্গাঙ্গনের পথচলা। প্রতিশ্রুতি পূরণের আয়নায় আজকের দিনটি তাই রাজ্যের জন্য বিশেষ। বাংলার সংস্কৃতি, শিল্প ও ঐতিহ্যের ঠিকানায় এক নতুন ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের দিন—যার সাক্ষী থাকছে পুরো নিউটাউন, আর গর্বের সঙ্গেই দেখছে সমগ্র বাংলা।
