Mamata Banerjee: SIR শুনানিতে বয়স্কদের দুর্ভোগে ক্ষুব্ধ মমতা, নাম কাটলেই দিল্লি অভিযান!

রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে রাজ্যজুড়ে তীব্র বিতর্কের আবহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বৃদ্ধ, বৃদ্ধা ও বিশেষভাবে সক্ষম নাগরিকদের বারবার শুনানির জন্য ডেকে আনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। মঙ্গলবার বাঁকুড়ার বড়জোড়ার জনসভা থেকে এই ইস্যুতেই সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ার নামে সাধারণ মানুষকে অমানবিক কষ্ট দেওয়া হচ্ছে, যা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

আরও পড়ুন:B.A. in Journalism and Digital Media: ভুয়ো খবরের ভিড়ে সত্যের খোঁজে ডেটা জার্নালিজম, গড়ে উঠছে নতুন পেশার দিগন্ত!


মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “৬০-৭০ বছরের বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের ডেকে এনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড় করানো হচ্ছে। এতটা নিষ্ঠুরতা কেন? পুরুলিয়ায় একজন বৃদ্ধ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এরা কি বাবা-মায়ের সম্মান দিতে জানে না?” তাঁর দাবি, এসআইআর-এর নামে সাধারণ মানুষের উপর অযথা চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং এতে বহু প্রবীণ ও অসুস্থ মানুষ বিপাকে পড়ছেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান, একজন বৈধ ভোটারের নামও যদি তালিকা থেকে বাদ পড়ে, তবে দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দফতর ঘেরাও করা হবে।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:-https://youtube.com/@thenewspole

রাজ্যজুড়ে চলমান এসআইআর শুনানিতে বহু মানুষ নোটিস পেয়ে হাজির হতে বাধ্য হচ্ছেন। তালিকায় রয়েছেন বয়স্ক নাগরিক, প্রতিবন্ধী ও অসুস্থ ব্যক্তিরাও। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা আগেই মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। এই প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে পুরুলিয়ায়। ৮২ বছরের দুর্জন মাঝি, যিনি এসআইআর শুনানিতে হাজিরা দিতে যাওয়ার কথা ছিল, তিনি আর ফিরলেন না। জানা গিয়েছে, শুনানিতে সময়মতো পৌঁছতে না পারার দুশ্চিন্তায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। সোমবার সকালে টোটো ধরতে বেরিয়ে নিখোঁজ হন তিনি। পরে বাড়ির কাছেই রেললাইন থেকে উদ্ধার হয় তাঁর নিথর দেহ। এই ঘটনায় মৃতের পরিবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়া আসলে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—মানুষের অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনে আরও বড় আন্দোলনে নামবে রাজ্য সরকার।