Abhishek Banerjee:‘গণতন্ত্র দুর্বল করার চক্রান্ত’ — নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে তুলোধোনা অভিষেকের!

রাজনীতি রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো:ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে পশ্চিমবঙ্গে সুপরিকল্পিত ভাবে গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করার চেষ্টা চলছে—এই অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তাঁর অভিযোগ, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে কার্যত রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ‘বাংলা-বিরোধী’ এবং ‘নারী-বিরোধী’ রাজনীতি চালানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2026/01/05/adhir-chowdhury-odisha-migrant-workers-attack-protest-warning/

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত দীর্ঘ পোস্টে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, স্পেশ্যাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR)-এর নামে প্রথম দফায় রাজ্যের বিপুল সংখ্যক বৈধ ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, এটি কোনও প্রশাসনিক সংস্কার নয়, বরং নির্দিষ্ট ভোটব্যাংককে বঞ্চিত করার রাজনৈতিক কৌশল। সেই চেষ্টা প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ায় পরে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’-র মতো অস্পষ্ট ও বিতর্কিত পরিভাষা সামনে এনে জোর করে ভোটার তালিকা থেকে নাম ছাঁটাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ তৃণমূল নেতার।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের এই প্রক্রিয়া রাজনৈতিক ভাবে ব্যর্থ হওয়ার পর বিজেপি প্রকাশ্যে তাদের সামন্ততান্ত্রিক ও পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার পরিচয় দিচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির একাংশ নেতা-নেত্রী এমন মন্তব্য করছেন, যেখানে স্বামীদের স্ত্রীদের ঘরে আটকে রাখার নিদান দেওয়া হচ্ছে, যাতে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের মাধ্যমে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠা মহিলারা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারেন। এই ধরনের মন্তব্যকে তিনি নারীস্বাধীনতা ও সংবিধানস্বীকৃত ভোটাধিকারের উপর সরাসরি আঘাত বলে উল্লেখ করেন।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT

পাশাপাশি, বিজেপি ক্ষমতায় এলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়া হবে—এই হুমকির কথাও সামনে আনেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, মহিলাদের আর্থিক সহায়তাকে ‘ভিক্ষা’ বলে কটাক্ষ করা হচ্ছে এবং রাজ্যের হিন্দু সমাজকে উদ্দেশ্য করে অবমাননাকর ভাষায় বলা হচ্ছে যে তারা নাকি ‘মাত্র ৫০০ টাকার বিনিময়ে নিজেদের বিক্রি করে’। অভিষেকের মতে, এই ধরনের মন্তব্য একদিকে যেমন সামাজিক বিভাজনের রাজনীতি, অন্যদিকে তেমনই বাংলার আত্মমর্যাদা ও সম্মানের উপর চরম আঘাত।

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য, রাজ্যের নারীসমাজ আজ সংগঠিত, সচেতন এবং রাজনৈতিক ভাবে শক্তিশালী। সেই কারণেই নারীদের ভোটাধিকার বিজেপির কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। এই আতঙ্ক থেকেই ভোটার তালিকা সংশোধন, কটূক্তি এবং নারীবিরোধী মন্তব্যের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে বলে তাঁর অভিযোগ।

এই পরিস্থিতিতে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট বার্তা দেন—রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মহিলা তাঁদের অধিকার, সম্মান ও আত্মমর্যাদা রক্ষার প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভোটকেন্দ্রে যাবেন। তাঁর প্রত্যয়, সেই গণরায়ই ‘বাংলা-বিরোধী’ ও ‘নারী-বিরোধী’ রাজনীতির বিরুদ্ধে চূড়ান্ত জবাব হয়ে উঠবে এবং বাংলার গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যকে আরও একবার প্রতিষ্ঠা করবে।