নিউজ পোল ব্যুরো:গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ওড়িশায় একের পর এক পরিযায়ী শ্রমিক নিগ্রহের অভিযোগে তীব্র উদ্বেগ ছড়িয়েছে। অভিযোগ, বাংলায় কথা বলার ‘অপরাধে’ পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিকদের বাংলাদেশি দাগিয়ে মারধর করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদ ও সরেজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে রবিবার ওড়িশার সম্বলপুরে যান কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য তথা বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ অধীর চৌধুরী (Adhir Chowdhury Odisha protest warning)।
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2026/01/04/mamata-banerjee-letter-eci-sir-voter-list-west-bengal-bihar/
সম্বলপুরের পেনসিল মোড় ও লেবার চক এলাকায় পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে পরিযায়ী শ্রমিকদের কাছে পৌঁছন অধীর। সেখানে মুর্শিদাবাদ-সহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তাঁদের অভাব-অভিযোগ শোনেন এবং আতঙ্কিত না হওয়ার বার্তা দেন। পাশাপাশি সতর্ক থাকার পরামর্শও দেন কংগ্রেস নেতা। অধীর জানান, গোটা বিষয়টি তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নজরে এনেছেন এবং প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গে ওড়িশা প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বের পরিচয় করিয়ে দিয়ে অধীর (Adhir Chowdhury Odisha protest warning) বলেন, কোনও সমস্যায় পড়লে স্থানীয় কংগ্রেস কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে। সেখান থেকে বিষয়টি জানালে তিনি নিজে পদক্ষেপ করবেন বলেও আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে তাঁর হুঁশিয়ারি, পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিকদের উপর অত্যাচার বন্ধ না হলে তিনি ওড়িশায় গিয়ে অবস্থান বিক্ষোভে নামবেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ওড়িশায় কাজ করতে গিয়ে বাংলায় কথা বলার কারণে মারধরের শিকার হয়ে মৃত্যু হয় মুর্শিদাবাদের ২২ বছরের যুবক জুয়েল শেখের। একই ধরনের ঘটনায় সম্বলপুরে কাজ করতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়ে ভাঙা হাত নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ধুলিয়ান পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গাজিনগরের বাসিন্দা ইজাজ আলি। মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত তিন মাসে বিজেপিশাসিত ওড়িশার সম্বলপুর, ভুবনেশ্বর ও ভদ্রক এলাকায় ৩০ থেকে ৩৫ জন পরিযায়ী শ্রমিক নিগৃহীত হয়েছেন। অভিযোগ, পরিচয় সংক্রান্ত বিভ্রান্তি বা নিছক সন্দেহের বশেই এই হামলাগুলি ঘটছে।
রবিবার অধীর চৌধুরী সম্বলপুরে পৌঁছতেই অনেক শ্রমিক আবেগে ভেঙে পড়েন। তাঁদের অভিযোগ, বাংলাদেশি বলে গালিগালাজ ও বারবার আক্রমণের মুখে পড়তে হচ্ছে। এক শ্রমিক অধীরকে বলেন, “দাদা, আমাদের বাংলাদেশি বলে গালি দেয় এখানে।” উত্তরে অধীর বলেন, “কোনও সমস্যায় পড়লে এখানকার কংগ্রেস পার্টি অফিসে চলে আসবে। অসতর্ক থেকো না, আবার ঘাবড়িয়েও পড়ো না। আমি প্রধানমন্ত্রী, এখানকার সাংসদ ও মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। এত দূর যখন আসতে পেরেছি, বাকি পথও যাব।”
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
অধীরের হঠাৎ উপস্থিতিতে কিছুটা হলেও আশ্বস্ত হয়েছেন পরিযায়ী শ্রমিকেরা। মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওড়িশায় কাজ করলেও আগে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি। তাঁর কথায়, “আমাদের জীবন আর জীবিকা আজ চরম সঙ্কটে। মুর্শিদাবাদ থেকে অধীরদা এসে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সঙ্গে উনি কথা বলছেন শুনে কিছুটা হলেও নিশ্চিন্ত বোধ করছি।”
