SIR voter list controversy:‘এক দেশে দুই নিয়ম’ এসআইআর ইস্যুতে পশ্চিমবঙ্গ–বিহার তুলনা করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ফের চিঠি মুখ্যমন্ত্রীর!

রাজনীতি রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো:ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) (SIR voter list controversy) প্রক্রিয়া ঘিরে ফের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি পাঠালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাড়ে তিন পাতার এই চিঠিতে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, অনিয়ম বন্ধ না হলে তার ফল হতে পারে ‘অপূরণীয় ক্ষতি’, আর তার জেরে বহু বৈধ ভোটার তাঁদের সাংবিধানিক ভোটাধিকার হারানোর ঝুঁকিতে পড়বেন।

আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2026/01/04/west-bengal-governor-manifesto-roadmap-president/

উল্লেখ্য, এসআইআর (SIR voter list controversy) ইস্যুতে এর আগেও ২০ নভেম্বর ও ২ ডিসেম্বর মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। শনিবার তৃতীয় বার একই বিষয়ে কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি অভিযোগের পরিসর আরও বিস্তৃত করেন।

চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রীর অন্যতম প্রধান অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়া চালাতে গিয়ে নির্বাচন কমিশন এক দেশে ভিন্ন ভিন্ন রাজ্যের জন্য ভিন্ন মানদণ্ড প্রয়োগ করছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের তুলনা টানেন। তাঁর দাবি, বিহারে এসআইআর প্রক্রিয়ায় বংশতালিকাকে বৈধ পরিচয়পত্র হিসেবে গ্রহণ করা হলেও পশ্চিমবঙ্গে তা মানা হচ্ছে না। শুধু তাই নয়, বংশতালিকা গ্রহণ না করার নির্দেশ নাকি কোনও সরকারি বিজ্ঞপ্তি বা বিধিবদ্ধ নির্দেশিকা ছাড়াই হোয়াট্‌সঅ্যাপের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, প্রথাগত সরকারি নির্দেশিকা জারি না করে প্রতিদিন হোয়াট্‌সঅ্যাপের মতো অনানুষ্ঠানিক মাধ্যমে নতুন নতুন নির্দেশ পাঠানো হচ্ছে। এর ফলে একাধিক নির্দেশ পরস্পরবিরোধী হয়ে উঠছে এবং মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে চরম বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT

চিঠিতে আরও দাবি করা হয়েছে, নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক (ইআরও)-দের অনুমতি ও জ্ঞাতসারে না রেখেই কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থার অপব্যবহার করে ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী ইআরও-র অজ্ঞাতে এই ধরনের পদক্ষেপ আইনসঙ্গত নয় বলেও চিঠিতে উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করে জানান, এই প্রক্রিয়ায় যদি কোনও বেআইনি কাজ হয়ে থাকে, তার সম্পূর্ণ দায় নির্বাচন কমিশনের উপরই বর্তাবে।

এসআইআর সংক্রান্ত শুনানি নিয়েও ভোটার হেনস্থার অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, কোনও নির্দিষ্ট কারণ না জানিয়ে ভোটারদের শুনানিতে ডাকা হচ্ছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে অকারণ ভয় তৈরি হচ্ছে। নামের বানানে সামান্য ভুল বা বয়সে সামান্য অমিল থাকলেই ভোটারদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ ছাড়াও চিঠিতে বলা হয়েছে, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়াই এসআইআর প্রক্রিয়ার কাজ শুরু করা হয়েছে। যাঁরা এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের উপর গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব বর্তালেও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি বলে দাবি মুখ্যমন্ত্রীর। এমনকি কমিশনের মাইক্রো-অবজার্ভারদেরও এই সংক্রান্ত কাজের পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা নেই বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই মাইক্রো-অবজার্ভারদের কাজ শুরু করার বিষয়টিও গোটা প্রক্রিয়াকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে বলে অভিযোগ তাঁর।