Draupadi Murmu: ‘হয়তো আমার উপর রাগ করেছেন মমতা!’ বাংলা সফরে এসে কেন এমন আক্ষেপ রাষ্ট্রপতির কণ্ঠে?

রাজনীতি রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: ভোটের আগে বাংলার রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠল রাষ্ট্রপতির (Draupadi Murmu) সফরকে ঘিরে। রাজ্যে এসে অনুষ্ঠানস্থল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করলেন দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (Draupadi Murmu)। তাঁর অভিযোগ, নির্ধারিত স্থানে অনুষ্ঠানের অনুমতি রাজ্য সরকার দেয়নি বলেই বারবার সভাস্থল পরিবর্তন করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েই গোঁসাইপুরে অনুষ্ঠান করতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুন: OM Birla: ওম বিড়লার অনাস্থা প্রস্তাবে সমর্থনের সিলমোহর তৃণমূলের, দিল্লিতে তৎপরতা তুঙ্গে

শনিবার শিলিগুড়ি মহকুমার গোঁসাইপুরে অনুষ্ঠিত নবম আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে যোগ দেন রাষ্ট্রপতি (Draupadi Murmu)। তবে অনুষ্ঠানের মঞ্চে উপস্থিত হয়ে দর্শকাসনে অনেক খালি চেয়ার দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি। রাষ্ট্রপতির প্রশ্ন ছিল, এত আসন ফাঁকা কেন? তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত মেলে যে কোথাও না কোথাও বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে।

উদ্যোক্তাদের দাবি, প্রথমে এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করার পরিকল্পনা ছিল শিলিগুড়ি মহকুমার বিধাননগর এলাকায়। কিন্তু বিভিন্ন কারণে বারবার অনুষ্ঠানস্থল পরিবর্তন করতে হয়। মোট চারবার স্থান বদলের পর শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে বাগডোগরা বিমানবন্দরের কাছাকাছি গোঁসাইপুরে সভা করার অনুমতি দেয় প্রশাসন।

আয়োজকদের অভিযোগ, বহু আমন্ত্রিত অতিথি থাকা সত্ত্বেও অনেকেই অনুষ্ঠানে প্রবেশ করতে পারেননি। কারণ তাঁদের নিরাপত্তা পাস দেওয়া হয়নি এবং পুলিশ তাঁদের আটকে দেয়।সভামঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি এই পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, এত আসন ফাঁকা দেখে মনে হচ্ছে কেউ যেন অনুষ্ঠানটিতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে।

এরপর অনুষ্ঠান শেষ করে তিনি সরাসরি বিধাননগর এলাকায় যান যেখানে প্রথমে সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল। সেখানে গিয়ে এলাকা ঘুরে দেখেন এবং বলেন, তিনি আসলে এই স্থানেই সভা করতে চেয়েছিলেন। তাঁর মতে, সেখানে পর্যাপ্ত জায়গা ছিল। কিন্তু রাজ্য সরকার কেন সেই অনুমতি দেয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, “তিনি আমার ছোট বোনের মতো। কিন্তু হয়তো কোনও কারণে তিনি আমার উপর অসন্তুষ্ট হয়েছেন, তাই হয়তো এখানে অনুষ্ঠান করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।”

এদিকে রাষ্ট্রপতির এই সফরে মুখ্যমন্ত্রী তো বটেই, রাজ্যের কোনও মন্ত্রীও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না। এ বিষয়েও তিনি মন্তব্য করেন যে, সাধারণত রাষ্ট্রপতি যখন কোনও রাজ্যে সফরে যান, তখন মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রিসভার কেউ তাঁকে স্বাগত জানান এটাই প্রচলিত প্রোটোকল।

পরবর্তীতে বিধাননগরের নির্ধারিত স্থানে একটি শালগাছ রোপণ করেন রাষ্ট্রপতি। এরপর সেখান থেকে তিনি বাগডোগরা বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেন। অন্যদিকে শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব বলেন, রাজ্যের পক্ষ থেকে তিনিই রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে জেলা শাসক ও পুলিশ কমিশনারও উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি ভবনের অনুমোদন অনুযায়ীই এই স্বাগত তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। সভাস্থল পরিবর্তনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মূলত নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণেই এই সমস্যা তৈরি হয়েছিল।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole