নিউজ পোল ব্যুরো: এ বছর জয়নগরের মোয়ার বাজার কার্যত নতুন ইতিহাস তৈরি করছে। দেশ-বিদেশ মিলিয়ে চাহিদা এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও অবাক। কিছুটা আক্ষেপের সুরেই বলছেন তাঁরা জয়নগরের আসল ১ নম্বর মোয়া এখন আর শুধু দেশেই সীমাবদ্ধ নেই, তার বড় অংশই পাড়ি দিচ্ছে বিদেশে। গত বছর যেখানে সুইডেন ও মালয়েশিয়ায় রফতানি হয়েছিল জয়নগরের মোয়া, সেখানে এ বছর নতুন সংযোজন আমেরিকা (USA)। অর্থাৎ, জয়নগরের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি এবার পৌঁছে যাচ্ছে মার্কিন মুলুকেও।
শীত যতই জমাট বাঁধছে, ততই কনকচূড় ধানের চাল আর নলেন গুড়ের গুণমান বাড়ছে। খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ ভালো হওয়ায় নলেন গুড়ের স্বাদ ও ঘ্রাণ দুটোই হয়েছে আরও সমৃদ্ধ। সেই উৎকৃষ্ট নলেন গুড়ের সঙ্গে খাঁটি খোয়া ক্ষীর, ভালো মানের ঘি, কিসমিস, এলাচ, জয়িত্রী সব মিলিয়ে তৈরি হচ্ছে জয়নগরের বিখ্যাত মোয়া। স্বাদে-গন্ধে যা কার্যত অতুলনীয়।
মোয়া ব্যবসায়ীদের দাবি, এ বছর শীত সময়মতো ও ভালোভাবে পড়ায় গুড়ের জোগানও পর্যাপ্ত রয়েছে। ফলে উৎপাদনে কোনও সমস্যা হয়নি। বরং গত বছরের তুলনায় চলতি মরশুমের একেবারে শুরু থেকেই বিদেশি অর্ডার আসতে শুরু করেছে। এক ব্যবসায়ী জানালেন, “গত বছর মোটামুটি ১৫ হাজার পিস মোয়া বিদেশে পাঠানো হয়েছিল। এ বছর এই সময়ের মধ্যেই সেই সংখ্যাটা ছাপিয়ে গেছে। বড়দিনের আগে রফতানি আরও বাড়বে বলেই আশা।”
জানা গিয়েছে, একটি রফতানি সংস্থার মাধ্যমে আমেরিকায় (USA) পাঠানো হচ্ছে প্রায় ৫০ কেজি মোয়া। বিশেষ প্যাকেজিংয়ের মাধ্যমে এই মোয়া পৌঁছতে সময় লাগছে প্রায় পাঁচ দিন। অর্থাৎ, তৈরি হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই আমেরিকার (USA) মাটিতে পৌঁছে যাচ্ছে জয়নগরের মোয়া। স্বাদ ও মান বজায় রাখতে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে সংরক্ষণ পদ্ধতিতেও।
সব মিলিয়ে বলা যায়, জয়নগরের মোয়া এখন আর শুধু বাংলার গর্ব নয়, আন্তর্জাতিক স্তরেও নিজের জায়গা শক্ত করছে। বিদেশের বাজারে ক্রমবর্ধমান চাহিদা প্রমাণ করছে স্বাদ আর ঐতিহ্যের মেলবন্ধন হলে সীমান্ত কোনও বাধা নয়।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
