Diabetes Risk: শিশুর ডায়াবিটিসের শিকড় গর্ভে! বিস্ফোরক দাবি গবেষকদের

স্বাস্থ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: মায়ের খাদ্যাভ্যাস ও পুষ্টিগত অবস্থার উপরেই যে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শরীর-স্বাস্থ্য অনেকটাই নির্ভর করে, তা নতুন করে প্রমাণ করল এক গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা। বিশ্বজুড়ে শিশুর ডায়াবিটিস ও গর্ভকালীন ডায়াবিটিস নিয়ে নানা গবেষণা চললেও, পুণের ম্যাটারনাল নিউট্রিশন স্টাডি (PMNS)-এর গবেষকেরা বিষয়টির আরও গভীরে গিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরেছেন।

আরও পড়ুন: iphone: কম দামে হাই-এন্ড আইফোন! এসই ৪ হতে পারে অ্যাপলের মাস্টারস্ট্রোক

গবেষণা অনুযায়ী, গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরে যদি ভিটামিন বি১২ ও ফোলেট -এর ঘাটতি থাকে অথবা মা অপুষ্টিতে ভোগেন, তা হলে সন্তানের পরবর্তী জীবনে টাইপ ২ ডায়াবিটিস (Type 2 Diabetes) ও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে টাইপ ২ ডায়াবিটিস বেশি দেখা যায় এবং শিশুদের মধ্যে টাইপ ১ ডায়াবিটিস বেশি পরিচিত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে শিশু ও কিশোরদের মধ্যেও টাইপ ২ এমনকি কৈশোরে টাইপ ৫ ডায়াবিটিসের ঘটনাও নজরে আসছে। মানবদেহে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে ইনসুলিন হরমোন। শিশুদের ক্ষেত্রে অনেক সময় অগ্ন্যাশয়ের বিটা কোষ (Pancreatic Beta Cells) ঠিকভাবে গঠিত না হওয়ায় ইনসুলিনের ক্ষরণ ব্যাহত হয়। আবার কোনও কোনও ক্ষেত্রে ইনসুলিন নিঃসৃত হলেও শরীরে ইনসুলিন রেজ়িস্ট্যান্স (Insulin Resistance) তৈরি হয়, ফলে হরমোনটি কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে না। গবেষকেরা জানাচ্ছেন, এই সমস্যাগুলির সূত্রপাত হতে পারে গর্ভকালেই, বিশেষ করে যদি হবু মায়ের পুষ্টির ঘাটতি থাকে।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole

এ ধরনের শিশুদের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ওজন দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং রক্তে শর্করার মাত্রাও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে থাকে। এর ফলেই অল্প বয়সেই টাইপ ২ ডায়াবিটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, শুধু গর্ভাবস্থায় নয়—মায়ের শৈশবকাল থেকেই যদি অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও অপুষ্টি থাকে, তা হলেও ভবিষ্যতে তার জেস্টেশনাল ডায়াবিটিস হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে নবজাতকের উপরও। সিজারের সময় অতিরিক্ত রক্তপাত, সংক্রমণ, শিশুর রক্তে সুগার কমে যাওয়া, তীব্র জন্ডিস বা শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতাও দেখা দিতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, গর্ভাবস্থায় নির্দিষ্ট সময়ে রক্ত পরীক্ষা, সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং প্রক্রিয়াজাত ও বাইরের খাবার সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলাই মা ও শিশুর সুস্বাস্থ্যের চাবিকাঠি।