নিউজ পোল ব্যুরো: উনিশ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। একের পর এক কন্যাসন্তানের জন্মের পর অবশেষে পুত্রসন্তানের মুখ দেখলেন হরিয়ানার এক দম্পতি। ঘটনাটি ঘিরে পরিবারে যেমন আনন্দের আবহ, তেমনই আবার নতুন করে মাথাচাড়া দিচ্ছে সমাজে পুত্রসন্তানকে ঘিরে পুরনো মানসিকতা ও পিতৃতন্ত্রের বিতর্ক।
হরিয়ানার ফতেহাবাদ জেলার ভুনা ব্লকের ধনি ভোজরাজ গ্রামের বাসিন্দা সঞ্জয় কুমার ও তাঁর স্ত্রী সুনিতা কুমার। পেশায় দিনমজুর সঞ্জয় ও গৃহবধূ সুনিতার দাম্পত্য জীবন শুরু হয়েছিল প্রায় দুই দশক আগে। বিয়ের পর অন্যান্য দম্পতির মতো তাঁরাও সন্তান কামনা করেছিলেন। কিন্তু তাঁদের আশা ছিল—একটি পুত্রসন্তান। বাস্তবে όμως, উনিশ বছরের দাম্পত্য জীবনে সুনিতা টানা দশবার কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। একের পর এক গর্ভধারণ, ঝুঁকিপূর্ণ প্রসব এবং শারীরিক ধকলের পরেও দম্পতি থেমে যাননি।
শেষ পর্যন্ত নতুন বছরের শুরুতেই, গত ৪ জানুয়ারি, ৩৭ বছর বয়সে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন সুনিতা। এর ফলে তাঁদের মোট সন্তানের সংখ্যা দাঁড়াল ১১-এ। নবম ও দশম কন্যা লক্ষ্মী এবং বৈশালীর পর পরিবারে এল এই পুত্রসন্তান। নতুন সদস্যের আগমনে পরিবারের সকলেই খুশি বলে দাবি করা হয়েছে। দশ দিদি মিলেই ভাইয়ের নাম রেখেছে ‘দিলখুশ’। তবে এই আনন্দের মাঝেও প্রশ্ন উঠছে সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে। ২০২৫ সালেও কি হরিয়ানার মতো রাজ্যে পুত্রসন্তান পাওয়ার আশায় বারবার সন্তান নেওয়ার প্রবণতা বদলায়নি? দারিদ্র্যের সংসারে এগারোটি সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সঞ্জয়ের দাবি, তিনি তার সব মেয়েকে সমান ভালোবাসেন এবং তাদের পড়াশোনার দায়িত্ব নিচ্ছেন। বড় মেয়ে সরিনা দ্বাদশ শ্রেণিতে, অমৃতা একাদশে, সুশীলা সপ্তমে, কিরণ ষষ্ঠে, দিব্যা পঞ্চমে, মন্নত তৃতীয়তে, কৃতিকা দ্বিতীয়তে ও অমনীশ প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সকলেই নিয়মিত স্কুলে যায়।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
এর মধ্যেই সোশাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে সঞ্জয় নিজের দশ মেয়ের নাম একসঙ্গে বলতে পারছেন না। এই ভিডিও ঘিরেই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে লিঙ্গবৈষম্য ও পুত্রকেন্দ্রিক মানসিকতা নিয়ে। সঞ্জয় অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, মেয়েদের প্রতি তাঁর কোনও বৈষম্য নেই। কিন্তু সমাজের চোখে প্রশ্ন থেকেই যায়—যদি সত্যিই বৈষম্য না থাকে, তবে উনিশ বছরের এই দীর্ঘ অপেক্ষার প্রয়োজন কেন?
