Alipore Zoo : আলিপুর চিড়িয়াখানার জলহস্তীকে হাঁটাচলায় ফিরিয়ে আনার জন্য শুরু ইনফ্রারেড থেরাপি

কলকাতা

নিউজ পোল ব্যুরো: আলিপুর চিড়িয়াখানায় (Alipore Zoo) উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বছর চারেকের একটি পুরুষ জলহস্তীর (Hippopotamus) শারীরিক অবস্থা। স্নায়ুরোগে আক্রান্ত হওয়ায় পায়ের শক্তি প্রায় সম্পূর্ণভাবে হারিয়েছে এই জলহস্তীটি (Hippopotamus)। স্নায়ু ঠিকমতো কাজ না করায় সে হাঁটাচলা করতে পারছে না। সেই কারণেই গত প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে জল থেকেই উঠতে পারেনি সে। কার্যত জলবন্দি অবস্থাতেই রয়েছে আলিপুরের এই বাসিন্দা। চিড়িয়াখানা সূত্রে জানা গিয়েছে, জলহস্তীটির পায়ের বল ফেরাতে বিশেষ চিকিৎসা শুরু করা হয়েছে। মেডিক্যাল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তাকে ফিজিওথেরাপির আওতায় আনা হয়েছে এবং ইনফ্রারেড রে থেরাপির মাধ্যমে স্নায়ুগুলিকে পুনরায় সক্রিয় করার চেষ্টা চলছে। ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশনের মাধ্যমে এই থেরাপি করা হয়, যা স্নায়ু ও মাংসপেশিকে উদ্দীপিত করতে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন : CV Ananda Bose : হুমকি ইমেলকে তোয়াক্কা নয়! নামমাত্র নিরাপত্তায় ডেকার্স লেনে প্রাতরাশে রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস

গত ১৭ দিন ধরে জলহস্তীটি (Hippopotamus) এক জায়গাতেই পড়ে রয়েছে। জলে সামান্য নড়াচড়া করতে পারলেও সে নিজে থেকে উঠে দাঁড়াতে পারছে না। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে আলিপুর চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ একটি বিশেষ মেডিক্যাল টিম গঠন করেছে। এই দলে রয়েছেন আলিপুরের পশু চিকিৎসকদের পাশাপাশি বেলগাছিয়া প্রাণী হাসপাতালের বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া নন্দনকানন চিড়িয়াখানার (Alipore Zoo) চিকিৎসকরাও এই টিমে যুক্ত রয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে নন্দনকানন থেকেই এই জলহস্তীটিকে আলিপুরে আনা হয়েছিল। পাশাপাশি রাঁচি ও মাইসুরু চিড়িয়াখানার অভিজ্ঞ পশু চিকিৎসকরাও পরামর্শ দিচ্ছেন। প্রথমে জলহস্তীটিকে জল থেকে তুলে আনার জন্য ক্রেন ব্যবহারের কথা ভাবা হয়েছিল। তবে বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী আপাতত সেই পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছে। ক্রেন ব্যবহারে ঝুঁকি থাকায়, তার পরিবর্তে ধীরে ধীরে ফিজিওথেরাপির মাধ্যমেই পায়ের শক্তি ফেরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole

চিকিৎসকদের মতে, ইনফ্রারেড রে থেরাপি (Infrared Therapy) ফিজিওথেরাপির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই রশ্মি নার্ভাস টিস্যু, জয়েন্ট ও মাংসপেশির উপর তাপ প্রয়োগ করে স্নায়ুগুলিকে সক্রিয় করতে সাহায্য করে। মানুষ ও পশু—দুই ক্ষেত্রেই এই থেরাপি কার্যকর। অতীতে আলিপুর চিড়িয়াখানায় (Alipore Zoo) একটি সম্বর হরিণের উপর এই থেরাপি প্রয়োগ করে সাফল্য মিলেছিল। প্রায় এক মাস চিকিৎসার পর সেই হরিণ আবার হাঁটাচলা করতে সক্ষম হয়। আলিপুর চিড়িয়াখানার (Alipore Zoo) মেডিক্যাল বোর্ডের এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, জলহস্তীর স্নায়ু কত দ্রুত সাড়া দেবে তা এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে নিয়মিত ইনফ্রারেড রে থেরাপির মাধ্যমে স্নায়ু সক্রিয় হলে, সে আবার স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারবে—এই আশাতেই চিকিৎসা চলছে।