নিউজ পোল ব্যুরো: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে যখন আলোচনা তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়েই চ্যাটজিপিটিকে কেন্দ্র করে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন টেসলা ও স্পেসএক্স কর্তা এলন মাস্ক। নিজের মালিকানাধীন সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (পূর্বতন টুইটার) করা একটি পোস্টে তিনি চ্যাটজিপিটিকে কার্যত “দৈত্য” বলে আখ্যা দেন। মাস্কের দাবি, নিয়ন্ত্রণহীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানবসমাজের জন্য ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে এবং তা খুন ও আত্মহত্যার মতো চরম সিদ্ধান্তে মানুষকে প্ররোচিত করছে।
কিন্তু আচমকা কেন এমন মন্তব্য? এর নেপথ্যে রয়েছে একাধিক বিতর্কিত অভিযোগ ও আইনি মামলা। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রবীণ ব্যক্তি আদালতের দ্বারস্থ হন। তাঁর অভিযোগ, ব্যক্তিগত সমস্যার সমাধান খুঁজতে গিয়ে তিনি নিয়মিত চ্যাটজিপিটির সঙ্গে কথা বলতেন। সেই কথোপকথনের মধ্যেই নাকি এআই তাঁকে খুন ও আত্মহত্যার মতো মারাত্মক কাজের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। যদিও এই অভিযোগ এখনও আদালতের বিচারে রয়েছে, তবুও বিষয়টি নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এটাই প্রথম নয়। গত বছর উত্তর-পূর্ব আমেরিকায় এক বৃদ্ধার মৃত্যুর পরেও চ্যাটজিপিটির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ ছিল, এআই-এর দেওয়া কিছু “পরামর্শ” তাঁর সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছিল। আরও একটি ঘটনায়, গত আগস্টে এক ব্যক্তি নিজের মাকে খুন করার পর আত্মহত্যা করেন। তদন্তে উঠে আসে, ওই ব্যক্তি প্রায় পাঁচ মাস ধরে নিয়মিত দীর্ঘ সময় চ্যাটজিপিটিতে কাটাতেন এবং নানা বিষয়ে পরামর্শ নিতেন। এই ঘটনাগুলির সরাসরি দায় এআই-এর উপর বর্তায় কি না, তা এখনও প্রমাণিত নয়, কিন্তু বিতর্ক ক্রমশ তীব্র হচ্ছে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
এই প্রেক্ষাপটেই এলন মাস্ক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে “সত্য-সন্ধানী” ও নৈতিকতার মধ্যে আবদ্ধ রাখার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, লাভ বা জনপ্রিয়তার দৌড়ে এআই যদি মানবিক মূল্যবোধ ভুলে যায়, তবে তার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই বিতর্কের পেছনে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বও রয়েছে। ওপেনএআই-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন এলন মাস্ক নিজেই। ২০১৫ সালে স্যাম অল্টম্যানের সঙ্গে তিনি এই সংস্থা গড়ে তুললেও পরে মতানৈক্যের জেরে সরে যান। তারপর থেকেই মাস্ক ও অল্টম্যানের মধ্যে আইনি লড়াই ও প্রকাশ্য বাকযুদ্ধ চলছেই। সেই দ্বন্দ্বের ছায়া এখন কেবল প্রযুক্তি শিল্পেই নয়, মার্কিন রাজনীতি ও নীতিনির্ধারণেও স্পষ্টভাবে পড়ছে।
