Mamata Banerjee: মোদির সফরের পরই সিঙ্গুরে মমতা! নতুন বছরে কি টাটাদের জমিতেই মিলবে বড় শিল্পের বার্তা?

রাজনীতি রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: মোদির (Narendra Modi) সফরের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার হুগলির সিঙ্গুরে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। চলতি মাসের ২৮ জানুয়ারি সিঙ্গুরের মাটিতে জনসভা করবেন তিনি (Mamata Banerjee)। এই সভা থেকেই রাজ্য সরকারের অন্যতম জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ‘বাংলার বাড়ি’-র কিস্তির টাকা বিতরণ করা হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর সফরের খবর প্রকাশ্যে আসতেই গোটা জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। সভাস্থল সাজানো থেকে শুরু করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: Bhangar: ভোটের আগে রণক্ষেত্র ভাঙড়! বোমা ছুড়ে তৃণমূল কর্মীকে খুনের চেষ্টা, জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি

রাজনৈতিক মহলে এই সফরকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, সিঙ্গুর মানেই শিল্প ও রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাই মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) এই মঞ্চ থেকে শিল্প নিয়ে কোনও বার্তা দেন কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যবাসী থেকে শুরু করে শিল্প মহল। পাশাপাশি, নতুন কোনও প্রকল্প বা বড় ঘোষণার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না অনেকে।

রবিবার সিঙ্গুরে জনসভা করে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সভার আগে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের তরফে দাবি করা হয়েছিল, শিল্প নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। তবে বাস্তবে দেখা যায়, সিঙ্গুরের মঞ্চ থেকে শিল্প সংক্রান্ত কোনও বক্তব্যই রাখেননি মোদি। এই বিষয়টি নিয়ে রাজ্য বিজেপির অন্দরে প্রশ্ন ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। কেন শিল্প প্রসঙ্গে নীরব থাকলেন প্রধানমন্ত্রী, তা নিয়ে দলের ভিতরেই জল্পনা শুরু হয়েছে।

এই আবহেই প্রধানমন্ত্রীর সভার পরপরই সিঙ্গুরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সভা থেকে শিল্প নিয়ে কোনও স্পষ্ট বার্তা আসে কি না, সেদিকেই এখন রাজনৈতিক মহলের নজর। ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকার সিঙ্গুরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার বিনিয়োগে সবুজ সংকেত দিয়েছে। ১১.৩৫ একর জমি বরাদ্দ করা হয়েছে এবং প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে বলেও জানা যাচ্ছে। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর সভা মঞ্চ থেকেই বাংলার আবাস যোজনার কিস্তির অর্থ উপভোক্তাদের হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে।

উল্লেখ্য, বিরোধী নেত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক উত্থানে সিঙ্গুর এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। শিল্পের নামে কৃষকদের জমি জোর করে নেওয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলনের মুখ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। ক্ষমতায় এসে সেই বিতর্কিত জমি ফের কৃষকদের হাতে তুলে দেন। ক্ষমতায় থাকার প্রায় ১৫ বছর পর ফের সিঙ্গুরকে রাজনৈতিক ও শিল্প সমীকরণের কেন্দ্রবিন্দুতে আনতে চাইছে রাজ্য সরকার। হুগলির এই ভূমিকে ঘিরে নতুন করে তৈরি হচ্ছে নানা রাজনৈতিক হিসাব–নিকাশ।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole