নিউজ পোল ব্যুরো: ফারাক্কায় বিডিও অফিসে ভাঙচুর ও হিংসার ঘটনায় এবার কড়া অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক মণিরুল ইসলামের (Manirul Islam) বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার মধ্যে জেলাশাসককে ওই এফআইআর নথিভুক্ত করতে হবে এবং তার রিপোর্ট কমিশনকে জানাতে হবে।
আরও পড়ুন: Amit Shah: মাধ্যমিকের জন্য কাটছাঁট সফরসূচিতে! ফেব্রুয়ারির বদলে চলতি মাসেই বঙ্গে অমিত শাহ
অভিযোগ, বিডিও অফিসে পরিকল্পিতভাবে তাণ্ডব চালানো হয়। চেয়ার-টেবিল ভাঙচুরের পাশাপাশি বন দফতরের মাইক্রো অবজার্ভারকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। কমিশনের এই নির্দেশ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
বিজেপি এই ঘটনায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে আক্রমণ আরও জোরদার করেছে। বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা বলেন, “নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) এই পদক্ষেপ একেবারেই সঠিক। এতে পরিষ্কার বোঝা যায়, রাজ্য সরকার কীভাবে হিংসায় জড়িতদের এবং সন্ত্রাসে অভিযুক্ত বিধায়কদের আড়াল করছে। ছ’জন গ্রেফতার হলেও তাঁদের বিরুদ্ধে হালকা ধারা দেওয়া হয়, ফলে তাঁরা সহজেই ছাড়া পেয়ে যান। এরপর তৃণমূল কংগ্রেস তাঁদের মালা দিয়ে সংবর্ধনা জানায়।”
এখানেই থামেননি রাহুল সিনহা। তাঁর অভিযোগ, “যাঁর নেতৃত্বে এই হামলা হয়েছে এবং যিনি বারবার উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছেন, তাঁর নামই এফআইআরে নেই। গ্রেফতার তো দূরের কথা, অভিযুক্তের তালিকাতেও মণিরুল ইসলামের নাম রাখা হয়নি। এতে স্পষ্ট বোঝা যায়, এই হিংসার নেপথ্যে সরকারই রয়েছে। তাই কমিশনের নেওয়া কঠোর পদক্ষেপকে আমরা পূর্ণ সমর্থন জানাই।” অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ প্রসঙ্গে মণিরুল ইসলাম প্রতিক্রিয়া দিয়ে বলেন, “আইন আইনের পথেই চলবে। বিচারব্যবস্থা সবার জন্য উন্মুক্ত।”
উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগেও একাধিক ক্ষেত্রে কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। কখনও বিএলও-দের বিরুদ্ধে এফআইআর, কখনও প্রশাসনিক পদক্ষেপ—সব মিলিয়ে রাজনীতিতে উত্তাপ বেড়েছে। এবার সরাসরি এক বিধায়কের বিরুদ্ধে এফআইআরের নির্দেশ ঘিরে প্রশ্ন উঠছে, শেষ পর্যন্ত এই নির্দেশ কতটা কার্যকর হবে। একের পর এক ঘটনায় সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
