নিউজপোল ব্যুরো: সালটা ১৯৯৫। ছক ভাঙলেন অপর্ণা সেন (Aparna Sen)। সবাই বলত পরিচালক অপর্ণা শুধুই নারীবাদী। কিন্তু ৯৫ তে দীপক আর অনসূয়ার গল্প দিয়ে দর্শকদের দিলেন নতুন বার্তা। ঝেড়ে ফেলে দিলেন নারীবাদীদের তকমা। ছবির নাম ‘যুগান্ত’ (Yugant)। ‘যুগান্ত’ সমালোচক মহল থেকে দর্শকমহলে সাড়া ফেলেছিল। নায়িকার ভূমিকায় রূপা গঙ্গোপাধ্যায়কে (Roopa Ganguly) নতুন রূপে গড়ে তুলেছিলেন অপর্ণা সেন। রূপার বিপরীতে ছিলেন গায়ক নায়ক অঞ্জন দত্ত (Anjan Dutt)। যেন এক নতুন অঞ্জন। আজ ৩১ বছর পর আবার সেই রূপা-অঞ্জন জুটি ফের বড় পর্দায়। কোন ছবি দিয়ে ফিরছেন তাঁরা?

এবার ৩১ বছর পর সেই জুটিকেই ফেরাচ্ছেন নবীন পরিচালক সমর্পণ সেনগুপ্ত। তাঁর নতুন ছবি ‘প্রত্যাবর্তন’ দিয়ে। এই ছবি শিকড়ে ফেরার গল্প। সময়ের কাছে সময়ের ফেরার গল্প। রূপা আর অঞ্জন ভীষণ ভাল বন্ধু দুজনে। অঞ্জনের পরিচালনাতেও রূপা অভিনয় করেছেন। সেই বন্ধুত্বের কাছের ফেরার গল্পও প্রত্যাবর্তন। প্রবীণ দম্পতির ভূমিকায় এবার অঞ্জন-রূপা।
তবে শুধু রূপা-অঞ্জন নয়, রয়েছেন আরও এক ঝাঁক দাপুটে অভিনেতা। শিলাজিৎ মজুমদার, অপরাজিতা আঢ্য, খরাজ মুখোপাধ্যায়, কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, রূপা ভট্টাচাৰ্য, নবাগতা মিষ্টু প্রমুখ। ছবির গানে সুর দিচ্ছেন বনি চক্রবর্তী। ইঁদুর দৌড়ে আমরা যখন পরিবারের থেকে দূরে সরে যাচ্ছি, একাকীত্ব গ্রাস করছে প্রবীণদের, তখন শিকড়ে ফেলার গল্প বলে ‘প্রত্যাবর্তন’।

চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক সমর্পণ সেনগুপ্তর কথায় “আপনি সময়কে গুরুত্ব দেবেন, নাকি আপনার গুরুত্বগুলোকে সময় দেবেন?”— এই সময়ের এই ছোট্ট কিন্তু বড্ড কঠিন প্রশ্নের উত্তরের প্রতিচ্ছবি হল ‘প্রত্যাবর্তন’। এই গল্প কোনো একক পরিবারের নয়—এ আমাদের সময়ের গল্প। দ্রুত বদলে যাওয়া শহর, সাফল্যের দৌড়, সোশ্যাল মিডিয়ার ঝলকানি আর “ভালো থাকার” সংজ্ঞার ভেতরে হারিয়ে যাওয়া মানুষের গল্প। আমার ছবির প্রতিটা চরিত্র কোনো কাল্পনিক চরিত্র নয়, তারা আমাদেরই প্রতিবিম্ব। আজকের শহুরে ভারতের প্রতিটি ঘরের ভেতরের একাকিত্বের প্রতিনিধি তারা—যারা চাইছে আবার কথা বলতে, শুনতে, বাঁচতে। আর তাই তো অঞ্জন দত্ত, রূপা গাঙ্গুলি, অপরাজিতা আঢ্য, শিলাজিৎ মজুমদার, খরাজ মুখার্জি, কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর মতো অভিনেতারা বেরিয়ে এসেছেন তাঁদের স্টিরিওটাইপ, আগে সাজানো চরিত্রের রূপরেখা ও ব্যক্তিত্ব থেকে।
শুধু তাঁরাই নন—আগামীর সংকটকে অনুভব করে এই ছবিতে অভিনয় করেছেন গৌরব তপাদার, অরুণাভ খাসনবিশ, দীপাঞ্জন ঘোষের মতো নামজাদা সোশ্যাল মিডিয়া-খ্যাত শিল্পীরাও। সঙ্গে থাকছে এক নতুন প্রজন্মের চমক নবাগতা মিষ্টু।
এই ছবি কোনো “মেসেজ সিনেমা” হতে চায় না। দর্শককে দোষী করে না, বরং আয়নার সামনে দাঁড় করায়। আমি চাই দর্শক থিয়েটার থেকে বেরিয়ে শুধু গল্প নয়—নিজেদের জীবন, নিজেদের সম্পর্ক এবং নিজেদের ভালো লাগাগুলোকেও সঙ্গে করে নিয়ে যাক।‘প্রত্যাবর্তন’ মানুষের অদম্য জীবনীশক্তি এবং প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে জয়ী হওয়ার গল্প।”
মার্চে মুক্তি পেতে পারে ছবিটি। দর্শক উন্মুখ এখন রূপা-অঞ্জনকে নতুন ভাবে দেখতে।
