নিউজ পোল ব্যুরো: আগামী সোমবার থেকে রাজ্যে শুরু হতে চলেছে মাধ্যমিক পরীক্ষা (Madhyamik Examination 2026)। এবছর এই পরীক্ষায় বসছেন প্রায় সাড়ে ২ লক্ষ পরীক্ষার্থী। রাজ্যজুড়ে কয়েক হাজার পরীক্ষাকেন্দ্রে একযোগে পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত। প্রশ্নপত্র, নিরাপত্তা, পরীক্ষাকেন্দ্রের পরিকাঠামো—সব দিক থেকেই আয়োজন সম্পন্ন হলেও শেষ মুহূর্তে বড় অনিশ্চয়তার মুখে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। মূল সমস্যা তৈরি হয়েছে পরীক্ষায় গার্ড দেওয়ার জন্য নিযুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উপস্থিতি নিয়ে (Madhyamik Examination 2026)। পর্ষদের আশঙ্কা, বহু শিক্ষক বর্তমানে বিএলও (Booth Level Officer) হিসেবে নির্বাচন কমিশনের কাজে যুক্ত রয়েছেন। ফলে তারা আদৌ মাধ্যমিক পরীক্ষার দায়িত্ব পালন করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। পর্ষদের মতে, কতজন শিক্ষক বিএলও হিসেবে কাজ করছেন এবং পরীক্ষার সময় তাদের অব্যাহতি দেওয়া হবে কি না—এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের তরফে এখনও কোনও স্পষ্ট বার্তা মেলেনি(Madhyamik Examination 2026)।
শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু আগেই জানিয়েছিলেন, রাজ্য সরকারকে বিএলও (BLO) নিয়োগ সংক্রান্ত কোনও আনুষ্ঠানিক তথ্য নির্বাচন কমিশন দেয়নি। সেই কারণে পর্ষদ শুরু থেকেই মাধ্যমিক পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে আসছে (Madhyamik Examination 2026)। পরীক্ষার সময় শিক্ষকদের কমিশনের কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে পর্ষদের তরফে আগেও চিঠি পাঠানো হয়েছিল। সেই চিঠিকে সমর্থন জানিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী নিজেও। তবে বিষয়টি এখানেই থামেনি। গত দুই মাসে পরপর দু’বার নির্বাচন কমিশনকে চিঠি পাঠিয়েছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। পর্ষদ সূত্রে দাবি, এখনও পর্যন্ত কোনও চিঠিরই উত্তর মেলেনি। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, তারা নাকি কোনও চিঠিই পায়নি। এই টানাপোড়েনের মাঝেই জানা গিয়েছে, গোটা প্রক্রিয়ার সঙ্গে প্রায় ৫২ হাজার শিক্ষক যুক্ত রয়েছেন।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
পর্ষদের কাছে এখনও কোনও নির্দিষ্ট নিশ্চয়তা না থাকায় পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। পরীক্ষার একেবারে প্রাক্কালে পর্ষদ ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পর্ষদ সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলেছেন, যদি শিক্ষকরা বিএলওর (BLO) কাজেই যুক্ত থাকেন, তবে মাধ্যমিক পরীক্ষায় গার্ড দেবেন কারা? (Madhyamik Examination 2026) তার স্পষ্ট বক্তব্য, পরীক্ষার সময় শিক্ষকদের পূর্ণ সময়ের জন্য অব্যাহতি দেওয়া একান্ত প্রয়োজন। এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, “এটি রাজ্য সরকার এবং পর্ষদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ নিয়ে বেশি মন্তব্য করতে চাই না। তবে তৃণমূলের উদ্দেশ্য হল যে কোনও মূল্যে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া বন্ধ করা।”
