নিউজ পোল ব্যুরো:কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬ (Abhishek Banerjee on Union Budget 2026) পেশের পরেই রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বাজেটকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে একে আখ্যা দিয়েছেন “ফেসলেস, বেসলেস এবং ভিশনলেস”। তাঁর দাবি, এই বাজেট সাধারণ মানুষের বাস্তব সমস্যার সমাধান নয়, বরং সরকারের আত্মপ্রচারের দীর্ঘ রিপোর্ট মাত্র।
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2026/02/01/india-union-budget-2026-trade-health-women-sports-growth/
অভিষেকের অভিযোগ, প্রায় ৮৫ মিনিটের বাজেট ভাষণে অর্থমন্ত্রী বাংলার নাম একবারও উচ্চারণ করেননি। তাঁর কথায়, “এই বাজেটে বাংলার জন্য কার্যত কিছুই রাখা হয়নি।” স্বাস্থ্যখাতের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, নিমহ্যান্স সংক্রান্ত নতুন ঘোষণায় ঝাড়খণ্ড ও অসমে প্রতিষ্ঠান গড়ার কথা বলা হলেও বাংলার জন্য কোনও ব্যবস্থা নেই। ফলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজ্যের মানুষকে ভিনরাজ্যে যেতে হতে পারে—যাকে তিনি বাংলার মানুষের প্রতি “চরম অবহেলা” বলে উল্লেখ করেছেন।
বাজেটের পাশাপাশি কেন্দ্রের রাজনৈতিক অবস্থানকেও নিশানা করেন তৃণমূল নেতা। তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন ইস্যুর আড়ালে বাংলার প্রায় ১০ কোটি মানুষকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বক্তব্যে বাংলার মানুষকে ‘বাংলাদেশি’ তকমা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, বাজেটে শ্রমিক, কৃষক, মৎস্যজীবী ও যুবসমাজের জন্য কোনও স্পষ্ট রূপরেখা নেই। কর্মসংস্থান, কৃষকদের আয় সুরক্ষা বা ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা—কোনও ক্ষেত্রেই পরিষ্কার দিশা মেলেনি বলে তাঁর মন্তব্য। সরকার ‘স্কিল ইন্ডিয়া’, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নের কথা বললেও, বাস্তব চাকরি সৃষ্টির সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নেই বলেই অভিযোগ।
ডানকুনি শিল্প করিডর নিয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, আগের প্রতিশ্রুতিকেই ঘুরিয়ে বলা হয়েছে, নতুন কোনও বরাদ্দ বা অগ্রগতি স্পষ্ট করা হয়নি। জল জীবন মিশন প্রসঙ্গেও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বকেয়া অর্থ না দেওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, পূর্বঘোষিত প্রায় ২,৫০০ কোটি টাকার পূর্ণ বরাদ্দ এখনও রাজ্য পায়নি।
সব মিলিয়ে, বাজেট ২০২৬-কে (Abhishek Banerjee on Union Budget 2026) ঘিরে কেন্দ্র–রাজ্য সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত স্পষ্ট। বাংলার স্বার্থ উপেক্ষিত হয়েছে—এই অভিযোগকে সামনে রেখে তৃণমূল নেতৃত্ব রাজনৈতিক লড়াই আরও জোরদার করতে চলেছে বলেই পর্যবেক্ষকদের মত। রাজনীতির এই উত্তাপের প্রভাব সাধারণ মানুষের মধ্যেও পড়তে শুরু করেছে।
