নিউজ পোল ব্যুরো:বৈশ্বিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তার আবহ, বিশেষ করে মার্কিন শুল্কনীতি নিয়ে টানাপোড়েনের মাঝেই কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬-২৭-এ (Union Budget 2026-27 India) অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman budget announcement) এমন এক নীতিপথ দেখালেন, যেখানে দেশীয় উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য—দুটোকেই একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার স্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। স্বাস্থ্য, খেলাধুলা, নারী ক্ষমতায়ন, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও পর্যটন—সব কটি ক্ষেত্রকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছে কেন্দ্র।
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2026/02/01/india-venezuela-oil-deal-trump-announcement/
বিশ্ববাণিজ্য নীতিতে বড় বার্তা দিয়ে ব্যক্তিগত ব্যবহারের বিভিন্ন পণ্যে আমদানি শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সরকারের মতে, এতে একদিকে যেমন ভোক্তাদের খরচ কমবে, অন্যদিকে আধুনিক খুচরো বাজার ও ই-কমার্স খাতে স্থিতিশীল নীতিপরিবেশ তৈরি হবে। রফতানি খাতকে চাঙা করতে বস্ত্র, সামুদ্রিক মৎস্য এবং জুতো শিল্পে কাঁচামাল ও উপকরণ আমদানিতে শুল্কছাড়ের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। সামুদ্রিক খাদ্য রফতানিতে ব্যবহৃত কাঁচামালের শুল্কমুক্ত আমদানি সীমা ১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩ শতাংশ করা হচ্ছে। জুতোর উপরের অংশ রফতানির ক্ষেত্রেও শুল্ক সুবিধা কার্যকর হবে।
প্রতিরক্ষা খাতে এমআরও (Maintenance, Repair and Overhaul) ব্যবস্থার জন্য কাঁচামালে শুল্ক কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ, ব্যাটারি এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ প্রক্রিয়াকরণে শুল্কছাড় দিয়ে ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প গড়ে তোলার ইঙ্গিত স্পষ্ট। লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির যন্ত্রাংশ, সৌর কাচ তৈরির উপকরণ এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ প্রক্রিয়াকরণের মূলধনী যন্ত্রাংশে শুল্কছাড় নতুন বিনিয়োগ টানতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রয়োজনীয় পণ্যে শুল্কছাড়ের মেয়াদ ২০৩৫ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব প্রকল্প ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
স্বাস্থ্যখাত বাজেটে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেয়েছে। ক্যানসার ও বিরল রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ ওষুধে আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে, যাতে ওষুধের দাম কমে এবং রোগীদের আর্থিক চাপ হ্রাস পায়। পাশাপাশি আধুনিক চিকিৎসা হাব, আয়ুর্বেদ ও যোগকেন্দ্র গড়ে তোলার মাধ্যমে সমন্বিত স্বাস্থ্যব্যবস্থা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বায়ো-ফার্মা সেক্টরের উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে দেশীয় ওষুধ শিল্পকে শক্তিশালী করে আমদানিনির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য ধরা হয়েছে।
ক্রীড়াক্ষেত্রে ‘খেলো ইন্ডিয়া মিশন’ চালুর ঘোষণা আগামী দশকের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তৃণমূল স্তর থেকে এলিট পর্যায় পর্যন্ত প্রশিক্ষণ কাঠামো তৈরি, কোচ ও সাপোর্ট স্টাফ উন্নয়ন, নিয়মিত লিগ আয়োজন এবং মেট্রো শহরের বাইরে পরিকাঠামো গড়ে তোলায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি স্পোর্টস গুডস উৎপাদন ও গবেষণার মাধ্যমে খেলাধুলা ও শিল্পের মধ্যে যোগসূত্র আরও মজবুত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
পর্যটন খাতেও বিস্তৃত রূপরেখা সামনে এসেছে। পূর্বোদয় অঞ্চলের পাঁচ রাজ্যে পর্যটন হাব, পরিবেশবান্ধব ট্রেকিং রুট, গাইড প্রশিক্ষণ, ৪,০০০ ই-বাস চালু এবং সাতটি হাই-স্পিড রেল করিডর নির্মাণের পরিকল্পনা পর্যটনকে কর্মসংস্থান ও আঞ্চলিক উন্নয়নের বড় ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরেছে। আন্তর্জাতিক পর্যটনে টিসিএস হার ৫% ও ২০% থেকে কমিয়ে ২% করার প্রস্তাব বিদেশ ভ্রমণ সহজ করবে।
নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে ‘শি-মার্টস’ চালুর ঘোষণা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এটি মহিলাদের মালিকানাধীন কমিউনিটি রিটেল নেটওয়ার্ক হিসেবে ক্ষুদ্র উদ্যোগকে উদ্যোক্তায় রূপান্তরের পথ খুলে দেবে। প্রতিটি জেলায় মেয়েদের জন্য হোস্টেল গড়ে তোলার পরিকল্পনা উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়ক হবে। আয়ুষ, হস্তশিল্প ও গ্রামীণ জীবিকায় নারী উদ্যোক্তাদের বিশেষ সহায়তার পাশাপাশি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মহিলাদের জন্য প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের কথাও বলা হয়েছে।
সব মিলিয়ে বাজেট ২০২৬-২৭ (Union Budget 2026-27 India) সামাজিক উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পায়ন এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে সক্রিয় অংশগ্রহণ—এই তিন স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক দিকনির্দেশ স্পষ্ট করেছে। কেন্দ্রের লক্ষ্য, সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ভারতের অবস্থান আরও শক্ত করা।
