নিউজ পোল ব্যুরো: ছাত্র আন্দোলনের জেরে এক মাস পিছিয়ে গেল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের (University Exams) তৃতীয় সেমেস্টারের পরীক্ষা। শুক্রবার রাতে বিজ্ঞপ্তি জারি করে বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, পরিবর্তিত সূচি অনুযায়ী থিওরি পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ২৭ মার্চ থেকে। পরীক্ষা হবে ২৭ ও ৩০ মার্চ এবং ২ এপ্রিল। তবে প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষার সূচিতে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৬ মার্চ থেকে ২৩ মার্চের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কলেজগুলিতেই প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা নিতে হবে বলে জানানো হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে পড়ুয়াদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও আন্দোলন। অভিযোগ, দ্বিতীয় সেমেস্টারের ফল প্রকাশের পর তৃতীয় সেমেস্টারের ক্লাস শুরু হলেও অধিকাংশ কলেজে এখনও পর্যন্ত ৪০ দিনের মতো ক্লাসই হয়নি। তার মধ্যেই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ামক দপ্তর থেকে তৃতীয় সেমেস্টারের পরীক্ষার নির্ঘণ্ট প্রকাশ করা হয়। এর ফলে কলা, বিজ্ঞান ও বাণিজ্য বিভাগের পড়ুয়ারা সমস্যায় পড়েন বলে দাবি ওঠে। পড়ুয়াদের বক্তব্য, পর্যাপ্ত ক্লাস ছাড়া পরীক্ষা নেওয়া হলে সিলেবাস শেষ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে এবং পড়াশোনার মানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আরও পড়ুন:Abhishek Sharma: রোহিতের ভূমিকা পালন করতে হবে অভিষেক শর্মাকে
এই পরিস্থিতিতে সোমবার ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট ইউনিয়নের তরফে (University Exams) বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ কর্মসূচি নেওয়া হয়। পড়ুয়াদের দাবি ছিল, পর্যাপ্ত সংখ্যক ক্লাস না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়া হোক। আন্দোলনের জেরে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয় এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরীক্ষার সূচিতে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ জানিয়েছেন, ছাত্রছাত্রীদের অসুবিধার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘থিওরি পরীক্ষার ক্ষেত্রে সূচিতে পরিবর্তন করা হয়েছে যাতে পড়ুয়ারা প্রস্তুতির জন্য বাড়তি সময় পান। তবে প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষার সূচিতে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি।’’
প্রসঙ্গত, নতুন শিক্ষানীতি অনুযায়ী চালু হওয়া কারিকুলাম ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় তিন ও চার বছরের মেজর কোর্সের আগের সেমেস্টার পরীক্ষা শেষ হয়েছিল গত বছরের ১৮ ও ১৯ নভেম্বর। সেই পরীক্ষার প্রায় ৮০ দিনের মাথায় তৃতীয় সেমেস্টারের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করা হয়। পড়ুয়াদের দাবি, এই সময়ের মধ্যে মোট ৬৬ দিন শিক্ষা দিবস থাকলেও বাস্তবে পড়াশোনা হয়েছে মাত্র ৪০ দিন। এমন পরিস্থিতিতে চলতি মাসের ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২৭ ফেব্রুয়ারি ও ৫ মার্চ পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তকে অন্যায্য বলেই মনে করেছিলেন তাঁরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের (University Exams) তরফে পরীক্ষা পিছোনোর ঘোষণায় আপাতত স্বস্তি ফিরেছে পড়ুয়াদের মধ্যে। তবে পর্যাপ্ত ক্লাস ও একাডেমিক ক্যালেন্ডার মেনে ভবিষ্যতে যাতে এমন পরিস্থিতি না তৈরি হয়, সেই দাবিও উঠছে জোরালোভাবে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
