নিউজ পোল ব্যুরো:সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশের পরেও রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ (West Bengal DA protest) প্রদান না করায় ফের রাজপথে নামল সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। শীর্ষ আদালতের রায় কার্যকর না করার অভিযোগ তুলে রবিবার কলকাতার রাজপথে বৃহৎ মিছিলের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানালেন সরকারি কর্মচারীরা। সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার থেকে রানি রাসমণি রোড পর্যন্ত এই মিছিলে অংশ নেন বিভিন্ন দফতরের কর্মীরা। আন্দোলনকারীদের দাবি, আদালতের একাধিক নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার পরিকল্পিতভাবে ডিএ ইস্যুতে গড়িমসি করছে।
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2026/02/08/mohan-bhagwat-bangladesh-minority-persecution-hindus/
প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য সরকারকে বকেয়া ডিএ-র (দেWest Bengal DA protest) অন্তত ২৫ শতাংশ অবিলম্বে মেটানোর নির্দেশ দিয়েছে। সেই রায়কে সামনে রেখেই সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ ফের আন্দোলন জোরদার করেছে। মঞ্চের অভিযোগ, ডিএ সংক্রান্ত যতগুলি নির্দেশ শীর্ষ আদালত দিয়েছে, তার একটিও বাস্তবে রূপায়িত হয়নি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, সংবিধানের সর্বোচ্চ আদালতের রায় অমান্য করে কেন রাজ্য সরকার সরকারি কর্মীদের ন্যায্য প্রাপ্য আটকে রাখছে।
এই আন্দোলনের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ বলেন, গত ১৪ বছরে এমন এক প্রশাসনিক সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে যেখানে সুপ্রিম কোর্টের রায় কার্যকর করানোর জন্যও মানুষকে রাস্তায় নামতে হচ্ছে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত, আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করেই সরকার প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। একইসঙ্গে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, আগামী কয়েক মাসে সরকারি কর্মচারীরাই সরকারের এই অবস্থানের জবাব ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে বুঝিয়ে দেবে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
উল্লেখযোগ্যভাবে, চলতি সপ্তাহেই আন্দোলনকারীরা নবান্নে গিয়ে তাঁদের দাবি জানালেও কোনও সদর্থক সিদ্ধান্ত মেলেনি। তার পরেই ফের রাজপথে নামার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভাস্কর ঘোষের দাবি, বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দিলে সেই অর্থ শুধু কর্মচারীদের হাতেই থাকবে না, বাজারে ঘুরে সামগ্রিক অর্থনৈতিক চক্রকে সচল করবে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ডিএ আটকে রাখার ফলে সেই অর্থনৈতিক চক্র কার্যত স্তব্ধ হয়ে রয়েছে। তিনি আরও জানান, আদালতে শুনানির সময় বিচারপতিরা রাজ্যকে কড়া ভাষায় প্রশ্ন করেছেন—কর্মচারীদের অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে অর্থের অভাব দেখানো হলেও দানখয়রাত বা অন্যান্য খাতে অর্থ বরাদ্দে কোনও ঘাটতি দেখা যাচ্ছে না।
সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে যাতে রাজ্য সরকার কোনও রিভিউ পিটিশন দায়ের করতে না পারে, সেই কারণেই গণআন্দোলনকে আরও বিস্তৃত ও তীব্র করার পথে হাঁটছে তারা।
উল্লেখ্য, ডিএ সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সময়ের বকেয়া ডিএ তিন মাসের মধ্যে মিটিয়ে দিতে হবে। আদালত-গঠিত কমিটি শুধু অর্থ ছাড়ের রূপরেখা নির্ধারণ করবে না, সেই নির্দেশের বাস্তবায়নের উপরও নজরদারি করবে। পাশাপাশি, আগামী ৬ মার্চের মধ্যে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ প্রথম কিস্তি হিসেবে প্রদান এবং চলতি বছরের মে মাসের মধ্যেই সম্পূর্ণ বকেয়া মেটানোর নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
