Saokat Molla controversy:”আসন গেলেই ভাতা বন্ধ” ভাঙড়ে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে হুঁশিয়ারি শওকত মোল্লার!

রাজনীতি রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো:ভাঙড়ে তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক শওকত মোল্লার (Saokat Molla controversy) এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। রাজ্য বাজেটে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে ভাতা বৃদ্ধির পর যখন বহু উপভোক্তা বাড়তি টাকা পেতে শুরু করেছেন, ঠিক সেই সময়ে তাঁর এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে প্রশ্নের ঝড় তুলেছে। ভোটের মুখে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে তৃণমূলের অন্যতম বড় জনমুখী অস্ত্র হিসেবে ধরা হচ্ছে। সেই আবহেই সরকারি প্রকল্প নিয়ে এমন হুঁশিয়ারি শাসক দলের অন্দরেই অস্বস্তি বাড়িয়েছে।

আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2026/02/08/west-bengal-da-protest-supreme-court-sangrami-joutha-mancha/

ভাঙড়ের প্রাণগঞ্জে একটি প্রস্তুতি সভা থেকে শওকত মোল্লা প্রকাশ্যে দাবি করেন, যে সমস্ত এলাকায় তৃণমূল নির্বাচনে হেরেছে, সেখানে ইতিমধ্যেই সরকারি পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা বন্ধই থাকবে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ভাঙড়ের তিনটি অঞ্চল—চালতাবেড়িয়া, শানপুকুর এবং পোলেরহাট-১—যেখানে আইএসএফের কাছে তৃণমূল পরাজিত হয়েছে, সেখানে সরকারি ঘর, প্রকল্প ও ভাতার টাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

সভামঞ্চ থেকেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে শওকত মোল্লার (Saokat Molla controversy) বক্তব্য, “বাপের ব্যাটা হলে সেই টাকা উদ্ধার করে নাও। দেখে নেব কত বড় বাপের ব্যাটা।” এই মন্তব্য ঘিরে সঙ্গে সঙ্গেই বিতর্ক দানা বাঁধে। শুধু এখানেই থামেননি শওকত। তিনি আরও বলেন, “দাদার খাবে আর মামার গাইবে! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টাকা দেবেন, আর তাঁকে নিয়ে সমালোচনা হবে?” তাঁর এই মন্তব্যকে সরাসরি রাজনৈতিক আনুগত্যের সঙ্গে সরকারি সুবিধা জুড়ে দেওয়ার অভিযোগ হিসেবে দেখছে বিরোধীরা।

এখানেই শেষ নয়। সভা থেকে শওকত মোল্লা দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে নির্দেশ দেন, সিএমআরও-র তালিকায় যেসব আইএসএফ কর্মীর নাম রয়েছে, তারা যেন কোনও সরকারি সুযোগ-সুবিধা না পান, সে বিষয়টি ‘দেখে নিতে’। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিরোধী অধ্যুষিত এলাকায় ভবিষ্যতে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার-সহ একাধিক সরকারি প্রকল্পের সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া হবে।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT

এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিরোধী দলগুলি অভিযোগ তোলে, সরকারি প্রকল্পকে ভোটের হাতিয়ার করে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানোর চেষ্টা চলছে। সংবিধান অনুযায়ী সরকারি পরিষেবা রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে নাগরিকের অধিকার—এই যুক্তি তুলে ধরছে তারা।

শওকত মোল্লার মন্তব্যে অস্বস্তিতে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেসও। দলের মুখপাত্র তন্ময় ঘোষ স্পষ্ট করে বলেন,“এটা দলের অবস্থান নয়। উনি ব্যক্তিগতভাবে এমন মন্তব্য করেছেন। আমরা আলিপুরদুয়ার, পূর্ব মেদিনীপুর-সহ একাধিক জায়গায় হেরেছি, তবুও সেখানে সরকারি পরিষেবা ও ভাতার টাকা দেওয়া হচ্ছে। দলের তরফে নিশ্চয়ই ওঁর সঙ্গে কথা বলা হবে।” এই বক্তব্যে স্পষ্ট, শওকতের মন্তব্যকে দলীয় অবস্থান থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছে তৃণমূল।

অন্যদিকে বিজেপি এই বিতর্ককে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে ছাড়েনি। বিজেপি নেতা সজল ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, “এবার ভোটে তৃণমূল হেরে গেলে এই সব নেতাদের বাড়িকেও শৌচালয় হিসেবে ব্যবহার করা হবে।”