SIR: রাজ্যে এসআইআর-এর সময়সীমা বৃদ্ধি, ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ হচ্ছে না চূড়ান্ত তালিকা

দেশ

নিউজ পোল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ প্রক্রিয়া বা ‘এসআইআর’ (SIR) নিয়ে রাজ্য সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের সংঘাত এবার সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) তুঙ্গে উঠল। সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে শুনানি চলাকালীন রাজ্যের প্রশাসনিক গাফিলতি এবং দায়সারা মনোভাব নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতিরা।

আরও পড়ুন: Supreme Court: ১৪ ফেব্রুয়ারির পরেও মিলবে সময়, তবে কাজে বাধা চলবে না! ডিজিপি-কে শোকজ করে কড়া নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

আধিকারিক নিয়োগে গড়িমসি: ক্ষুব্ধ প্রধান বিচারপতি

নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) অভিযোগ ছিল, বারবার বলা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার পর্যাপ্ত আধিকারিক দিচ্ছে না। সোমবার শুনানিতে রাজ্যের আইনজীবী জানান, তাঁরা ৮৫০৫ জন অফিসারের তালিকা দিয়েছেন। কিন্তু কমিশন পালটা দাবি করে, তারা কোনো নামের তালিকা পায়নি, কেবল সংখ্যার কথা জানানো হয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, “কেবল সংখ্যা দিলে হবে না। অফিসারের নাম ও পদমর্যাদা সহ পূর্ণাঙ্গ তথ্য দিতে হবে, তবেই তাঁদের ডেপুটেশনে নেওয়া সম্ভব।” ৪ তারিখের বদলে কেন ৭ তারিখ তালিকা দেওয়া হলো, তা নিয়ে মুখ্যসচিবকে তলব করার হুঁশিয়ারিও দেয় আদালত।

হিন্দু মহাসভার মামলা নিয়ে সুপ্রিম (Supreme Court) প্রশ্ন

এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সওয়াল করার এক্তিয়ার নিয়ে একটি মামলা দায়ের করেছিল অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা। তবে শুরুতেই সেই মামলার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে শীর্ষ আদালত। বিচারপতিরা সাফ জানান, একটি সংগঠন যারা মন্দির দেখাশোনা করে, তাদের সঙ্গে নির্বাচন প্রক্রিয়ার কী সম্পর্ক? এই মামলার যৌক্তিকতা নিয়ে আদালত কড়া অবস্থান নেয়।

এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় তথ্য বিভ্রাট

রাজ্যের আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান জানান, প্রায় ১.৩৬ কোটি মানুষকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে, যার মধ্যে ৫০ শতাংশের ক্ষেত্রে কারণ কেবল নামের বানানে ভুল। অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের পক্ষে অভিষেক মনু সিংভি দাবি করেন, কমিশন এমন কর্মীদের ‘মাইক্রো অবজার্ভার’ হিসেবে নিয়োগ করেছে যাদের সাথে বাংলার কোনো যোগসূত্র নেই। এ নিয়ে ‘দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতি’ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন বিচারপতিরা।

আদালতের (Supreme Court) কড়া নির্দেশ

সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে:

মঙ্গলবারই (আগামীকাল) সমস্ত আধিকারিককে ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসারের কাছে রিপোর্ট করতে হবে।

এসআইআর প্রক্রিয়ায় কোনো ধরণের বাধা বা হিংসা বরদাস্ত করা হবে না।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকবে কেবল ইআরও (ERO)-দের হাতেই। তাঁদের সুবিধার্থে সময়সীমা আরও এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:-  https://youtube.com/@thenewspole