নিউজ পোল ব্যুরো: মুর্শিদাবাদ জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করে কর্ণসুবর্ণ ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৫০ শয্যার আধুনিক হাসপাতালের উদ্বোধন করা হয়েছে। এই নতুন স্বাস্থ্য পরিকাঠামো চালু হওয়ার ফলে এলাকার স্বাস্থ্য পরিষেবায় গুরুত্বপূর্ণ উন্নতি ঘটল। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই হাসপাতাল স্থানীয় মানুষের জন্য বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে। এতদিন উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীদের ছুটতে হত মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল অথবা দূরের বেসরকারি হাসপাতালে।
আরও পড়ুন: Weather Update : ফেব্রুয়ারির শেষেই বিদায় শীত! দক্ষিণবঙ্গে বাড়বে তাপমাত্রা জানাল আবহাওয়া দফতর
নতুন হাসপাতাল ভবনটি সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এবং অত্যাধুনিক চিকিৎসা পরিকাঠামো দিয়ে সাজানো হয়েছে। এখানে পুরুষ ও মহিলা রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ডের পাশাপাশি শিশুদের জন্য বিশেষ পেডিয়াট্রিক বিভাগ তৈরি করা হয়েছে। আধুনিক অপারেশন থিয়েটার, কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা এবং উন্নত ল্যাবরেটরি পরিষেবা চালুর ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিশুদের জন্য বিনোদনমূলক পরিবেশ তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে, যাতে ছোট রোগীরা চিকিৎসার সময় স্বস্তি পায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে শয্যার অভাবে কোনও রোগীকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে না। এই নতুন পরিষেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার ও জনপ্রিয় জননেতা ইউসুফ পাঠান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রুবিয়া সুলতানা, সন্দীপ সান্যাল, কানাইচন্দ্র মণ্ডল এবং শেখ হাসানুজ্জামান। তারা সকলেই এই উদ্যোগকে জেলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বড় সাফল্য বলে উল্লেখ করেছেন।
ঐতিহাসিক দিক থেকেও এই অঞ্চল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাচীন বাংলার শক্তিশালী শাসক রাজা শশাঙ্ক-এর রাজধানী হিসেবে পরিচিত এই এলাকা এখন উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রেও নতুন পরিচয় গড়ছে। মুর্শিদাবাদ জেলার রাঙামাটি, চাঁদপাড়া, সাটুই-সহ বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ এখন নিজেদের এলাকাতেই আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা পাবেন।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, আগে ১০ শয্যার স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি নতুন ভবন নির্মাণের মাধ্যমে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। আধুনিক লেবার রুম, উন্নত অপারেশন থিয়েটার এবং শিশু-বান্ধব ওয়ার্ড চালু হওয়ায় গ্রামীণ এলাকার মানুষ সহজেই উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এই হাসপাতাল চালু হওয়ায় স্থানীয় স্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন যুগের সূচনা হল।
