শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়
সুচিত্রার আভিজাত্য, চোখ ঝলসানো রূপ কিংবা সুপ্রিয়ার যৌনলাস্য সাবিত্রীর ছিলনা, কিন্তু ছিল ঐ দুটো চোখ।
‘প্রহর শেষের আলোয় রাঙা
সেদিন চৈত্রমাস
তোমার চোখে দেখেছিলাম
আমার সর্বনাশ!
যে চোখের সামনে দাঁড়াতে ভয় পেতেন স্বয়ং মহানায়ক। আবার এই সজল চোখের প্রেমেই পড়েছিলেন উত্তমকুমার। কিন্তু যে ভালবাসা কখনও পূর্ণতা পায়নি।
![]()
স্টার থিয়েটারে ‘শ্যামলী’ নাটক করতে গিয়ে উত্তম-সাবিত্রীর প্রেম গাঢ় হয়। সেই উত্তমকুমারের প্রথম ও একমাত্র পেশাদার রঙ্গমঞ্চে অভিনয়। প্রতিটি রজনী সুপারহিট ছিল এই নাটক। যে নাটক উত্তম-সাবিত্রীর জনপ্রিয়তা বড় পর্দার বাইরেও তুমুল বাড়িয়ে দেয়। তৎকালীন মন্ত্রীরা থেকে বহু গুণীজন স্টার থিয়েটারে এই নাটক দেখতে আসতেন।
‘শ্যামলী’ নাটক ঘিরেই যেমন সাবিত্রীর প্রথম প্রেমের সূত্রপাত, প্রথম প্রেমস্পর্শর সলাজ অনুভূতি তেমন এই নাটকের ফ্লোরেই চরম অপমানিত হন সাবিত্রী।

সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় ছিলেন উত্তমের ‘সাবু’। সাবিত্রী জানতেন উত্তম বিবাহিত, এক সন্তানের বাবা। তবু সেই আগুনের বৃত্তে ঢুকে পড়েন সাবিত্রী। সমাজের সাবিত্রীদের তো সতীত্বের পরীক্ষা বারবার দিতে হয়। সেই পৌরাণিক যুগ থেকে এ যুগেও। তাই তো তাঁর নাম সাবিত্রী।
সাবিত্রী কখনও উত্তমের ঘর ভাঙেননি। বরং নিজেকেই দূরে সরিয়ে রেখেছিলেন। তবু স্টার থিয়েটারে প্রকাশ্যে উত্তমকুমারের স্ত্রী গৌরী দেবী সাবিত্রীকে ‘ঘরভাঙানি’ বলে অপমান করেন। সেদিন মুখে রা কাটেননি সাবিত্রী।
উত্তম যখন সুপ্রিয়া দেবীর সঙ্গে নতুন সংসার গড়লেন তখন একবার সুচিত্রা সেন মন্তব্য করেছিলেন ‘উত্তম সেই তো ঘর ভাঙলি! তাহলে সাবিকে কেন কষ্ট দিলি?’

আড়ালে আবডালে অন্যের চোখে ধুলো দিয়ে নিজের ভালোবাসার মানুষকে পেতে চাননি। বহুগামিতার অনুগ্রহ চাননি সাবিত্রী।
তারচেয়ে অনেক ভালো ভেবেছেন নিজের নামে নিজের হাতে সাতমহলা বাড়ি বানানো। তাই করেছেন।
নিজের শূণ্য ঘরে ঘরে আলো জ্বালানো অনেক সম্মানের অনেক নিরাপদের।

সব মেয়েই ভালোবাসার মানুষকে নিয়ে নতুন সংসার সাজায় যা স্বপ্ন দেখে ছোটো থেকে কিন্তু তিনি ভালোবাসার মানুষ ছাড়াই মায়া মমতায় নিজের বাড়ি সাজিয়েছেন। নিজের হাতে সাজাতে সাজাতে ঐ বাড়ি কখন তাঁর ভালোবাসার বাড়ি হয়ে গেছে।
ভালোবাসার মানুষ নাই বা হল ভালোবাসার বন্ধুরা তো চারপাশ আলো করে আছেন তাতেই তাঁর ঘর সাজানো আলো জ্বালানো সার্থক। সেই আলোই কোনো অপবিত্রতা নেই।
আলোর নীচে কেউ তাঁকে দেখবে বলে আজও অন্তহীন অপেক্ষা করে চলেছেন।
‘আরও কাছে এসো … যায় যে বয়ে রাত’ সারাটি দিন ধরে চেয়ে থেকেও তাঁর মনের কথা তবু জানা যায় না৷
