নিউজ পোল ব্যুরো: এক সময় ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী শিল্পপতি (Industrialist) হিসেবে পরিচিত মুকেশ আম্বানির (Mukesh Ambani) ভাই অনিল আম্বানির (Anil Ambani) ব্যবসায়িক পরিস্থিতি বর্তমানে চরম চাপে। রিলায়েন্স কমিউনিকেশনস বা আরকম সংক্রান্ত ব্যাংক ঋণ জালিয়াতি ও অর্থপাচার মামলায় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (Enforcement Directorate) দিল্লি দফতরে বৃহস্পতিবার হাজিরা দেন তিনি। ইডির (ED Anil Ambani) আধিকারিকরা এদিন তাকে দ্বিতীয় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করেন, যা এই মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন : Kiriburu-Meghahatuburu : দু’দিনেই পাহাড়-জঙ্গল ভ্রমণ! সপ্তাহান্তে ঘুরে আসুন কিরিবুরু–মেঘাহাতুবুরু
তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, অনিল আম্বানির সংস্থা রিলায়েন্স কমিউনিকেশনস (Reliance Communications) বিভিন্ন দেশি ও বিদেশি ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়েছিল। বর্তমানে সেই ঋণের বকেয়া অঙ্ক প্রায় ৪০,১৮৫ কোটি টাকা। অভিযোগ, ব্যাংক থেকে নেওয়া এই বিপুল অর্থের একটি বড় অংশ নির্ধারিত কাজে ব্যবহার না করে অন্যত্র সরানো হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনের (PMLA Case) আওতায় তদন্ত চালাচ্ছে ইডি। এর আগেও এই মামলায় অনিল আম্বানিকে তদন্তকারীদের সামনে হাজির হতে হয়েছিল। গত বছর তাঁর বয়ান নথিভুক্ত করা হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হওয়ায় নতুন করে তদন্তের গতি বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:-https://youtube.com/@thenewspole
ইডি সম্প্রতি মুম্বইয়ের (Mumbai Property Attachment) ভিলে পার্লে এলাকায় অবস্থিত অনিল আম্বানির একটি সম্পত্তির অংশ বাজেয়াপ্ত করে। পাশাপাশি পালি হিলের বিলাসবহুল বহুতল আবাসন ‘অ্যাবোর্ড’-এর একটি বড় অংশও সাময়িকভাবে অধিগ্রহণ করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। সব মিলিয়ে প্রায় ১৫,৭০০ কোটি টাকার সম্পত্তি এখন ইডির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানা গেছে। সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court Order) নির্দেশ মেনে অনিল ধীরুভাই আম্বানি গ্রুপ বা এডিএজি (ADAG Group Investigation)-এর বিরুদ্ধে ব্যাংক জালিয়াতি ও আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, বাজেয়াপ্ত সম্পত্তিগুলি যাতে বিক্রি বা হস্তান্তর করা না যায়, সেই কারণেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এক সময় বিদ্যুৎ, টেলিকম ও প্রতিরক্ষা সহ একাধিক ক্ষেত্রে অনিল আম্বানির ব্যবসা বিস্তৃত ছিল। কিন্তু গত দুই দশকে একের পর এক আর্থিক ধাক্কায় তার ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়েছে। দিল্লিতে ইডির (Delhi ED Office Appearance) এই জিজ্ঞাসাবাদ ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্তির ঘটনা শিল্পমহলে নতুন করে আলোড়ন ফেলেছে।
