নিউজ পোল ব্যুরো: ইরান ও ইজরায়েলের সংঘাতের (Iran–Israel War) প্রভাব এবার সরাসরি এসে পড়েছে সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে এলপিজি (LPG) ডবল সিলিন্ডার সংযোগ আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তেল সংস্থাগুলির তরফে এলপিজি (LPG) ডিস্ট্রিবিউটরদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোনও গ্রাহক দ্বিতীয় সিলিন্ডারের জন্য আবেদন করলেও আপাতত সেই সংযোগ না দিতে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির (Middle East Conflict) কারণে গ্যাস সরবরাহে সম্ভাব্য চাপ সামলাতেই এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। ফলে যেসব পরিবারের রান্নাঘরে এখন একটি মাত্র এলপিজি (LPG) সিলিন্ডার রয়েছে, তাদের আপাতত সেটির ওপরই নির্ভর করতে হবে। গ্যাস ডিলারদের মতে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ বহাল থাকতে পারে।
আরও পড়ুন : Crude oil: রাশিয়ার তেল কিনতে ভারতকে ৩০ দিনের বিশেষ ছাড় দিল আমেরিকা
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্বেগের মূল কারণ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz)। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক জলপথ দিয়েই বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করে। যদি যুদ্ধের জেরে এই পথের স্বাভাবিক নৌ চলাচল ব্যাহত হয়, তাহলে ভারতের জ্বালানি আমদানিতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। বিশেষ করে রান্নার গ্যাস বা এলপিজি (LPG) সরবরাহ ব্যবস্থা (LPG Supply Chain) সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। ভারতে ব্যবহৃত মোট এলপিজির প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশই আমদানি করা হয়। এর অধিকাংশ আসে উপসাগরীয় দেশগুলি (Gulf Countries) থেকে এবং সেই জাহাজগুলির বেশিরভাগই হরমুজ প্রণালী পেরিয়েই ভারতে পৌঁছয়। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে দেশে প্রায় ৩০ দিনের মতো এলপিজি মজুত (LPG Stock) রয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের তুলনায় জাহাজ পৌঁছতে দেরি হলে সরবরাহে সাময়িক সমস্যা দেখা দিতে পারে। ইতিমধ্যেই নানা আশঙ্কার জেরে অনেক গ্রাহক আগেভাগেই সিলিন্ডার বুকিং করতে শুরু করেছেন। বিভিন্ন শহরের গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরদের দাবি, অনেকে অতিরিক্ত সিলিন্ডার সংগ্রহের চেষ্টাও করছেন। তাই অযথা মজুত না করার জন্য সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছে সরকার।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:-https://youtube.com/@thenewspole
অন্যদিকে, সমাজমাধ্যমে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি (Fuel Price Hike) নিয়ে নানা গুজব ছড়াচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে পেট্রল পাম্পগুলিতেও। অনেকেই দাম বাড়ার আশঙ্কায় গাড়ির ট্যাঙ্ক ভর্তি করে নিচ্ছেন। যদিও পাম্প মালিকরা জানিয়েছেন, এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। তেলের জোগান এখনও স্বাভাবিক রয়েছে। ওয়েস্ট বেঙ্গল পেট্রল ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অরুণ সিংঘানিয়ার কথায়, “এই মুহূর্তে তেলের সরবরাহে কোনও ঘাটতি নেই। তবে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামা হতে পারে। তার জন্য এখনই উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই।”
