নিউজ পোল ব্যুরো: বাচ্চা জেদ করলেই হাতে লজেন্স, বিস্কুট বা মিষ্টি কিছু তুলে দিচ্ছেন? কিংবা টিফিনে তাড়াহুড়ো করে চিনি মিশিয়ে ফ্রুট জুস বানিয়ে দিচ্ছেন এই ভেবে যে এতে পুষ্টি মিলবে? একটু সতর্ক হওয়া জরুরি। কারণ অজান্তেই এই অভ্যাস ছোটদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে। মিষ্টি স্বাদ শিশুদের খুব প্রিয় হলেও অতিরিক্ত চিনি (Sugar) তাদের শরীরে নানা সমস্যার পথ খুলে দেয়—যেমন স্থূলতা, টাইপ–২ ডায়াবেটিস এমনকি ভবিষ্যতে উচ্চ রক্তচাপের আশঙ্কাও বাড়ায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাচ্চাদের খাবার থেকে চিনি পুরোপুরি বাদ দেওয়া সহজ নয়। তাই প্রশ্ন ওঠে, ছোটদের জন্য ঠিক কতটা চিনি নিরাপদ (Baby health Tips) এবং কোন ধরনের চিনি এড়িয়ে চলা উচিত? বিশেষজ্ঞদের মতে, সব ধরনের মিষ্টি একরকম ক্ষতিকর নয়।
পুষ্টিবিদরা জানান, গোটা ফল বা খেজুরে থাকা প্রাকৃতিক চিনি শিশুদের জন্য তুলনামূলকভাবে নিরাপদ। কারণ এগুলোর সঙ্গে থাকে ভিটামিন, খনিজ ও ফাইবার, যা শরীরে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বাড়তে দেয় না। আসল সমস্যা ‘অ্যাডেড সুগার’ বা বাইরে থেকে যোগ করা চিনি নিয়ে। বিস্কুট, প্যাকেটজাত জুস, সফট ড্রিংক বা নানা প্রক্রিয়াজাত খাবারে যে চিনি মেশানো থাকে, তাতে কার্যত কোনও পুষ্টিগুণ থাকে না—শুধু বাড়তি ক্যালোরি যোগ করে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, যে শিশুদের জীবনের (Baby health Tips) প্রথম দুই বছর অতিরিক্ত চিনি থেকে দূরে রাখা যায়, বড় হওয়ার পরে তাদের ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপের সম্ভাবনাও প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পায়। তাই বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, অন্তত প্রথম ২৪ মাস শিশুদের অতিরিক্ত চিনির স্বাদ না দেওয়াই ভালো।
কতটা চিনি নিরাপদ?
আমেরিকান একাডেমি অফ পেডিয়াট্রিকসের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২৫ গ্রাম পর্যন্ত চিনি খাওয়া নিরাপদ বলে ধরা হয়। কিন্তু বাস্তবে অনেক প্যাকেটজাত পানীয় বা স্পোর্টস ড্রিংকে এর থেকেও বেশি চিনি থাকে। তাই বাজার থেকে খাবার বা পানীয় কেনার সময় লেবেল দেখে নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে খেয়াল রাখবেন, প্রতি ১০০ গ্রাম খাবারে চিনির পরিমাণ যেন ৪ গ্রামের বেশি না হয়।
মিষ্টি খাওয়ার প্রভাব কি আচরণেও পড়ছে?
খেয়াল করে দেখেছেন কি, মিষ্টি খাওয়ার কিছুক্ষণ পর বাচ্চা হঠাৎ খুব চঞ্চল হয়ে উঠছে বা অকারণে বিরক্তি দেখাচ্ছে? অনেক সময় অতিরিক্ত চিনির কারণেই এমনটা ঘটে। রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়া–কমার ফলে শিশুদের আচরণেও পরিবর্তন দেখা যায়। দীর্ঘদিন এভাবে চলতে থাকলে দাঁতের ক্ষয়, হজমের সমস্যা ও অন্ত্রের স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন? (Baby health Tips)
চিনি পুরোপুরি বাদ দেওয়া বাস্তবে সম্ভব নয়। জন্মদিন, উৎসব বা বিশেষ দিনে মিষ্টি খাবার থাকবেই। তবে প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আনা দরকার। প্যাকেটজাত জুসের বদলে শিশুদের গোটা ফল খেতে দিন। বাড়িতে কেক বা মিষ্টি বানালে পরিশোধিত চিনির বদলে গুড় বা মধু ব্যবহার করতে পারেন। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ছোটবেলা থেকেই বাচ্চাদের বিভিন্ন ধরনের স্বাদের খাবারের সঙ্গে পরিচয় করানো, যাতে তারা শুধু মিষ্টির ওপর নির্ভরশীল হয়ে না পড়ে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
