নিউজ পোল ব্যুরো: মধ্যবিত্ত থেকে নিম্নবিত্ত প্রায় সব পরিবারেরই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় দুধ অত্যন্ত জরুরী (Dairy Industry)। শিশুদের পুষ্টি, চা-কফি থেকে শুরু করে নানা খাবার তৈরিতে দুধের প্রয়োজন হয়। তাই হঠাৎ যদি দুধের সরবরাহে সমস্যা দেখা দেয়, তা হলে সাধারণ মানুষের চিন্তা বাড়াটাই স্বাভাবিক। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির জেরে এমন আশঙ্কাই তৈরি হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রভাব বিশ্ববাজারে পড়তে শুরু করেছে, যার ঢেউ এবার ভারতের দুগ্ধ শিল্পেও লাগতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে (Dairy Industry)। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতির মূল কারণ (Hormuz Strait Crisis)। এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ দিয়ে বহু দেশ জ্বালানি আমদানি-রপ্তানি করে। সেই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতের জ্বালানি বাজারেও। গ্যাসের ঘাটতির কারণে শিল্পক্ষেত্রের একাধিক উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে (Dairy Industry)। এরই মধ্যে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে পারে (Dairy Industry)।
আরও পড়ুন : TMCMP : দুবার চিঠি দেওয়ার পর, কোনো উত্তর না পেয়ে আবারও তৃতীয়বার চিঠি তৃণমূলের
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, বিশেষ করে মহারাষ্ট্রে দুধ সরবরাহে ইতিমধ্যেই কিছুটা প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। তবে সমস্যাটা দুধ উৎপাদনে নয়, মূলত প্যাকেজিং ব্যবস্থায়। দুধ বাজারে পৌঁছতে গেলে প্রয়োজন প্যাকেট ও কার্টুনের (Dairy Industry)। এই প্যাকেট তৈরির কারখানাগুলিতে গ্যাসের উপরই নির্ভর করতে হয়। কিন্তু বর্তমান (Gas Supply Crisis)-এর কারণে অনেক কারখানাই পর্যাপ্ত জ্বালানি পাচ্ছে না। ফলে দুধের প্যাকেট ও কার্টুন তৈরিতে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে, জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে হোটেল ও রেস্তরাঁ ব্যবসাতেও। অনেক জায়গায় এলপিজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় রান্নাবান্না ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও কোথাও হোটেল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বা মেনু সীমিত করা হচ্ছে। এর ফলে বাণিজ্যিকভাবে দুধের চাহিদাও কিছুটা কমেছে। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় ডেয়ারিগুলিকে তুলনামূলক কম দামে গরু ও মহিষের দুধ বিক্রি করতে হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে (Dairy Industry)।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:-https://youtube.com/@thenewspole
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, যদি দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হয় তাহলে আগামী ১০ দিনের মধ্যে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তখন দুধ সরবরাহের উপর বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে। শুধু মহারাষ্ট্র নয়, ধীরে ধীরে দেশের অন্য রাজ্যগুলিতেও এই সমস্যা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গও এর বাইরে থাকবে না বলে মনে করা হচ্ছে। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে আপাতত আশ্বস্ত করা হয়েছে যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সরকারি সূত্রের দাবি, দেশের অভ্যন্তরে (LPG Production in India) বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে ভারতে এলপিজি বোঝাই দু’টি ট্যাঙ্কার আসছে, যাতে প্রায় ৯২ হাজার মেট্রিক টনের বেশি গ্যাস রয়েছে। ফলে আপাতত আতঙ্কের কোনও কারণ নেই বলেই জানিয়েছে কেন্দ্র।
