নিউজ পোল ব্যুরো: তারকাকন্যা পরিচয় তাঁর সঙ্গে জন্ম থেকেই জুড়ে থাকলেও, আলোঝলমলে প্রচারের মঞ্চ থেকে নিজেকে একটু দূরেই রাখতে ভালবাসেন ধানসিঁড়ি চক্রবর্তী। মাঝেমধ্যে বাবা নচিকেতার (Nachiketa Chakraborty) সঙ্গে এক মঞ্চে গান গাইতে দেখা গেলেও, এখনও পর্যন্ত বিনোদন জগতের নিয়মিত মুখ হয়ে ওঠার তাড়া নেই তাঁর। বরং নিজের ছন্দে, নিজের মতো করে জীবনটাকে উপভোগ করতেই স্বচ্ছন্দ তিনি। কেন এমন দূরত্ব? প্রশ্ন উঠতেই ধানসিঁড়ির সহজ স্বীকারোক্তি, “আমি আসলে নিজের মতো করেই থাকতে ভালবাসি, খুব বেশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হতে আমার ভাল লাগে না।”
আরও পড়ুন:Abhishek Banerjee: ‘মহিলার উপর আক্রমণ’, শশী পাঁজা ইস্যুতে কড়া বার্তা অভিষেকের ঘটনা ভুলবে না তৃণমূল
এই একই প্রশ্ন করা হয়েছিল নচিকেতা চক্রবর্তীকে। বাবার পরামর্শেই কি নিজেকে প্রচারের আলো থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পছন্দ করেন ধানসিড়ি? শিল্পীর উত্তর, “আমার পরামর্শ নয়। ও নিজেই একটু লাজুক প্রকৃতির। আমার পরিচয়টা খুব একটা ব্যবহার করতে চায় না ও।” নচিকেতার (Nachiketa Chakraborty) কন্যা এই পরিচিতি ব্যবহার করলে, নিজের পরিচিতি তৈরি হবে না। এমন কোনও ধারণায় বিশ্বাস করেন ধানসিড়ি? নচিকেতা বলেন, “ও কখনওই এই পরিচিতি আলাদা করে ব্যবহার করেনি। স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে কোনও জায়গাতেই নচিকেতার মেয়ে বলে ও আলাদা কিছু নেয়নি। যে চাকরিটা ও করে, সেটাও আমার নাম না করেই পেয়েছে।”
এ প্রসঙ্গে ধানসিড়ি আরও বলেন, “গানের জগতেও আমার নিজের মতো করেই আমি রয়েছি। আসলে সঙ্গীতজগতের সঙ্গে যোগ তৈরি হয়েছে নিজে থেকেই। পুরোটাই নিজের ইচ্ছায় হয়েছে। সঙ্গীত আমাকে একসময় নিজে থেকেই ধরা দেয়। তখন ঠিক করি, আমি গান করব। ছোটবেলায় আলাদা করে গান করার কথা ভাবিইনি।” তবে বাবার সঙ্গে মঞ্চে গান গাইতে ওঠার অভিজ্ঞতা উপভোগ করেন ধানসিড়ি। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে ধানসিড়ি গান, ‘সে প্রথম প্রেম বাবার নীলাঞ্জনা’। তিনি বলেন, “একাও অনুষ্ঠান করি। সবটাই সেখানে নিজের মতো করে ভাবা থাকে। তবে বাবার সঙ্গে এক মঞ্চে গাইতে গেলে একটু তো ভয় লাগেই।”
গান নিয়ে এবং জীবনে চলার পথে বাবার একটি পরামর্শ সব সময়ে মেনে চলার চেষ্টা করেন ধানসিড়ি। তাঁর কথায়, “বাবা সব কিছুতে ধৈর্য রাখতে বলেন। আমাকে বাড়িতে কখনও কিছু চাপিয়ে দেওয়া হয়নি। যা করেছি, নিজের ইচ্ছেয় করেছি।” ধানসিড়ি পেশায় শিক্ষিকা। সেই সঙ্গে তাল মিলিয়ে গান করেন। নচিকেতা (Nachiketa Chakraborty) নিজেও মনে করেন, আজকের দিনে শুধু গান গেয়ে টিকে থাকা কঠিন। একটি স্থায়ী পেশার প্রয়োজন রয়েছে। গায়কের কথায়, “স্কুলের পড়ানোর বিষয়টায় ও বেশি গুরুত্ব দেয়। গানটায় তাই বেশি সময় দিতে পারে না। আসলে শুধু গান গেয়ে টিকে থাকা কঠিন। সময়টা তো ভাল নয়।” তবে এই ব্যস্ত জীবনযাপনের মধ্যেও ছুটির দিনে বাবা-মেয়ে গান নিয়ে বসেন। শুধু একসঙ্গে গানবাজনা করাই নয়। অবসর পেলে পরস্পরকে দেশবিদেশের গানের খোঁজখবরও দেন তাঁরা।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
