Election 2026: ভোটের আগে কড়া নজর কমিশনের, সরকারি কাজের সঙ্গে রাজনীতি মেশানো চলবে না

রাজনীতি রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের বাকি চার রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিধানসভা নির্বাচনের সূচি ঘোষণার পর রবিবার বিকেল থেকেই কার্যকর হয়েছে আদর্শ আচরণবিধি (মডেল কোড অব কন্ডাক্ট বা এমসিসি)। নির্বাচনের প্রক্রিয়া যাতে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ ভাবে পরিচালিত হয়, সেই লক্ষ্যেই নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, মন্ত্রী এবং সরকারি কর্মচারীদের জন্য একাধিক স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করেছে।

আরও পড়ুন: Election 2026: বিজেপির প্রথম প্রার্থী তালিকা প্রকাশ, ১৪৪ আসনে চমক! ভবানীপুর–নন্দীগ্রামে শুভেন্দু

কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রচারের ক্ষেত্রে কোনও রাজনৈতিক দল সরকারি সম্পত্তি বা সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহার করতে পারবে না। সরকারি ভবন, গাড়ি বা সরকারি অর্থ ব্যবহার করে কোনও ধরনের প্রচার বা বিজ্ঞাপন দেওয়াও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিশেষ করে মন্ত্রীদের ক্ষেত্রে কমিশন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, সরকারি কাজের সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারকে কোনও ভাবেই মিশিয়ে ফেলা যাবে না। ভোটের প্রচারে সরকারি গাড়ি, সরকারি নিরাপত্তা বা অন্য কোনও সরকারি সুবিধা ব্যবহার করাও নিষিদ্ধ। প্রতি নির্বাচনের সময়ই এ ধরনের নির্দেশিকা জারি করা হলেও, তা লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রায়ই ওঠে। সেই কারণেই এ বার কমিশন আরও কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করেছে। কোথাও আদর্শ আচরণবিধি ভঙ্গ হলে শুধু রাজনৈতিক দলই নয়, সাধারণ নাগরিকরাও যাতে অভিযোগ জানাতে পারেন, সেই ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ‘সি-ভিজিল’ (C-Vigil) নামের মোবাইল অ্যাপ এবং নির্বাচন কমিশনের কলসেন্টার নম্বর ১৯৫০-তে দিন বা রাত-যে কোনও সময় অভিযোগ জানানো যাবে।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:-https://youtube.com/@thenewspole

এছাড়াও নির্বাচনী বিধি মানা হচ্ছে কি না তা নজরে রাখতে পাঁচ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে মোট ৫,১৭৩টি ফ্লাইং স্কোয়াড এবং ৫,২০০টি স্ট্যাটিক সার্ভেল্যান্স টিম (এসএসটি) মোতায়েন করা হয়েছে। কোনও অভিযোগ পাওয়া গেলে তা ১০০ মিনিটের মধ্যে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট দলগুলিকে। রাজনৈতিক দলগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোনও সভা বা মিছিল করার আগে পুলিশ প্রশাসনকে আগাম জানাতে হবে, যাতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা যায়। লাউডস্পিকার ব্যবহার করতেও আলাদা অনুমতি নিতে হবে। মাঠ বা হেলিপ্যাড ব্যবহারের জন্য ‘ইসিআইনেট’ (ECI-Net) অ্যাপের ‘সুবিধা’ পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে, যা ‘ফার্স্ট কাম ফার্স্ট সার্ভ’ ভিত্তিতে অনুমোদন দেওয়া হবে।

সবশেষে পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের উদ্দেশে নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট বার্তা-আদর্শ আচরণবিধি কঠোর ও নিরপেক্ষ ভাবে কার্যকর করতে হবে এবং সব রাজনৈতিক দলের প্রতি সমান আচরণ বজায় রাখতে হবে। কোনও আধিকারিক এই নির্দেশিকা অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।