আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চলমান উত্তেজনার মাঝেই বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে মার্কিন নৌবাহিনী (Iran us War)। ইরানকে ঘিরে সংঘাতের আবহে এবার আগুন লেগেছে আমেরিকার অন্যতম শক্তিশালী পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’-এ। ঘটনাটি ঘিরে সামরিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
জানা গিয়েছে, লোহিত সাগরে মোতায়েন থাকা এই বিশাল যুদ্ধজাহাজে আচমকাই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা (Iran us War) ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখতে জাহাজটিকে আপাতত গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের সুদা বে বন্দরে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) মার্কিন প্রশাসনের তরফে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
মার্কিন নৌবাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, জাহাজটির লন্ড্রি বিভাগ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় তা নিয়ন্ত্রণে আনতে নাবিকদের দীর্ঘ সময় ধরে লড়াই করতে হয়। এই ঘটনায় প্রায় ২০০ জন নাবিক ধোঁয়ার প্রভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাঁদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। গুরুতর অসুস্থ এক নাবিককে হেলিকপ্টারে করে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে।
আগুনের জেরে জাহাজের অভ্যন্তরে বেশ কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে প্রায় ১০০টি আবাসিক কক্ষ বা বার্থে ক্ষতির খবর মিলেছে। প্রথমদিকে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, জাহাজটির ইঞ্জিন বা প্রপালশন সিস্টেমে কোনও সমস্যা হয়নি এবং সেটি সচল রয়েছে। তবে সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতির কথা বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত মেরামতির জন্য বন্দরে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই অত্যাধুনিক রণতরীটি প্রায় নয় মাস ধরে টানা বিভিন্ন সামরিক অভিযানে (Iran us War) মোতায়েন ছিল। মধ্যপ্রাচ্যে আসার আগে এটি ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে ভেনিজুয়েলাকে ঘিরে অভিযানে অংশ নিয়েছিল। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার ফলে নাবিকদের ওপর মানসিক চাপ এবং জাহাজের কার্যক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
বর্তমানে এই রণতরীতে পাঁচ হাজারেরও বেশি নাবিক রয়েছেন এবং এফ-১৮ সুপার হর্নেটসহ ৭৫টিরও বেশি যুদ্ধবিমান মোতায়েন রয়েছে। ফলে জাহাজটি সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়ায় ইরানের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে আমেরিকার সামরিক কৌশলে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সামরিক অভিযানে মার্কিন বাহিনী ইতিমধ্যেই বহু লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। সেই অভিযানে ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ ছিল অন্যতম প্রধান শক্তি। এখন জাহাজটির মেরামতি শেষ হতে কত সময় লাগবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, আবার যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
