Ajay Nanda election:ভোটে অনিয়মে জিরো টলারেন্স, ভাঙড়ে গিয়ে কড়া বার্তা কমিশনার অজয় নন্দার!

রাজনীতি

নিউজ পোল ব্যুরো:আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতিতে জোরদার তৎপরতা শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের নির্দেশ মেনে রবিবার থেকে রাজ্যের বিভিন্ন থানায় পরিদর্শনে নামেন পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা। সেই প্রেক্ষিতেই এদিন সকালে ভাঙড় থানায় পৌঁছন কলকাতা পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা (Ajay Nanda election warning) এবং সেখানেই স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন—বুথ জ্যাম, ভোট রিগিং কিংবা বুথ দখলের মতো কোনও অনিয়মই বরদাস্ত করা হবে না।

আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2026/03/22/black-vinegar-health-benefits-weight-loss-digestion-skin/

ভাঙড় থানায় পৌঁছে প্রথমেই তিনি পুলিশ আধিকারিক ও কর্মীদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের সমস্ত গাইডলাইন কঠোরভাবে মেনে চলার উপর জোর দেন কমিশনার। তিনি জানান, নির্বাচন প্রক্রিয়া যাতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, তা নিশ্চিত করাই পুলিশের প্রধান দায়িত্ব। কোনও অভিযোগ উঠলে তা দ্রুত ও কঠোরভাবে মোকাবিলা করার নির্দেশও দেন তিনি।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT

বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অজয় নন্দা (Ajay Nanda election warning) জানান, ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সংবেদনশীল এলাকায় নাকা চেকিং ও তল্লাশি শুরু হয়েছে। বেআইনি অস্ত্র, নগদ টাকা বা অবৈধ সামগ্রী আটক করতে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে টহলদারি জোরদার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ভোটের দিন যত এগিয়ে আসবে, ততই নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করা হবে এবং অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনীও মোতায়েন করা হবে।

শুধু ভাঙড় নয়, রাজ্যের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকাতেও একইভাবে প্রস্তুতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিন প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের ডিআইজি কঙ্কর প্রসাদ বারুই দক্ষিণ শহরতলীর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ থানা—নরেন্দ্রপুর, সোনারপুর এবং বারুইপুর পরিদর্শন করেন। এই এলাকাগুলি কলকাতার সংলগ্ন হওয়ায় এবং একাধিক গ্রামীণ বুথ থাকার কারণে নিরাপত্তার দিক থেকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসন।

পরিদর্শনের সময় সংশ্লিষ্ট থানার আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা, বাহিনীর মোতায়েন, টহলদারি, এবং ভোটগ্রহণের দিন কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হবে—তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন ডিআইজি। প্রতিটি বুথে কীভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, বিশেষ করে দুর্গম বা গ্রামীণ অঞ্চলে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, সেই বিষয়েও বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।

এই প্রসঙ্গে কঙ্কর প্রসাদ বারুই বলেন, “ভোট ঘোষণা হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন থানার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোথাও কোনও ঘাটতি থাকলে তা দ্রুত পূরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভোটগ্রহণের দিন যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেদিকেও বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, নির্বাচন যাতে সম্পূর্ণ ফেয়ার, ফ্রি এবং ভয়হীন পরিবেশে সম্পন্ন হয়, সেই লক্ষ্যেই প্রশাসন কাজ করছে। সেই বার্তা দিতেই বিভিন্ন থানায় গিয়ে সরেজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধু উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাই নয়, থানার প্রতিটি স্তরের কর্মী—অফিসার থেকে হোমগার্ড পর্যন্ত সকলকেই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত মোতায়েন, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি করাই এখন পুলিশের প্রধান লক্ষ্য।

সবমিলিয়ে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনও ধরনের অনিয়ম বা অশান্তি যাতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী একযোগে কাজ শুরু করেছে। প্রশাসনের এই কড়া অবস্থান থেকে স্পষ্ট—এবারের ভোটে অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিই অনুসরণ করা হবে।